রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এই উক্তি শুধুই আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ভাইরাল হয়নি, বরং সরব হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। বিশেষ করে সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্কসহ মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ জনগণ এই বার্তাকে স্বাগত জানিয়েছে। কেউ বলছেন, “এটাই প্রকৃত বিশ্বনেতার ভাষা”, আবার কেউ মন্তব্য করছেন, “যে সময়ে ইসলামোফোবিয়া তুঙ্গে, সে সময়ে পুতিনের এই বার্তা এক ধরনের সাহসী অবস্থান।”
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম "আল-আখবারিয়া" পুতিনের মন্তব্যকে “সৌহার্দ্যের বার্তা” হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটির রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ এক রাজনীতিক বলেন, “এই মুহূর্তে মুসলিম বিশ্বের দরকার এমন একজন শক্তিশালী বন্ধুর, যিনি মুসলিমদের সম্মান দেন। পুতিন সে বার্তাই দিয়েছেন।” এদিকে, কাতারের আল জাজিরা টেলিভিশনে এই বক্তব্য নিয়ে একাধিক টকশো ও বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—রাশিয়ার এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমানোর কৌশলেরই অংশ।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ছিল আরও শক্তিশালী। দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ির ঘনিষ্ঠ এক উপদেষ্টা বলেছেন, “পুতিনের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি এক ধরনের আদর্শিক অবস্থান। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, মুসলিমরা এখন শুধু সহানুভূতির নয়, বরং কৌশলগত বন্ধুত্বের জায়গায়ও রয়েছেন।” ইরান-রাশিয়া সম্পর্ক বরাবরই ঘনিষ্ঠ, তবে এই বক্তব্য সেই সম্পর্ককে আরও গভীরতর করল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।