সোমবার, জুন ৮, ২০২৬
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েল অভিমুখে ইরানের দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ জুন, ২০২৬, ১১:৪২ এএম

ইসরায়েল অভিমুখে ইরানের দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। লেবাননে সামরিক আগ্রাসন ও বেসামরিক নাগরিক হত্যার প্রতিবাদে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় নতুন করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।

 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশে ধ্বংস করার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

 

সোমবার সকালে এই হামলার পর ইসরায়েলি নাগরিকদের মোবাইল ফোন ও সাইরেনের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দিয়ে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এই ঘটনায় দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক সংঘাত এক ধাক্কায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্তরে পৌঁছে গেছে।

 

এর আগে রোববার রাতেও উত্তর ইসরায়েলকে নিশানা করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল তেহরান। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, আগের বারের সব ক্ষেপণাস্ত্রই সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

 

তবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের টাইর ও নাবাতিয়েহ এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় বেসামরিক মানুষ হত্যার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা ইসরায়েলের রামাট ডেভিড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, লেবাননের ওপর ইসরায়েলের ধারাবাহিক আগ্রাসন ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন তেহরান আর মেনে নেবে না।

 

তাদের এবারের হামলা ছিল একটি প্রাথমিক সতর্কবার্তা এবং নতুন কোনো উসকানি এলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। আইআরজিসি স্পষ্ট করেছে যে ইসরায়েল পাল্টা আঘাত করলে এই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোর ওপরও বড় ধরনের আক্রমণ চালানো হতে পারে।

 

এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে নতুন করে কোনো পাল্টা হামলা না চালানোর এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের কড়া আহ্বান জানিয়েছেন।

 

ব্রিটিশ সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে ট্রাম্প বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই নিচ্ছেন। এছাড়া ইসরায়েলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ইরানের হামলায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং তিনি আশা করেন ইসরায়েলও পাল্টা কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবে না।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং তিনি চান না সাময়িক উত্তেজনার কারণে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেস্তে যাক।

 

তবে হোয়াইট হাউসের এই অনুরোধের বিপরীতে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আগে থেকেই হুমকি দিয়ে রেখেছেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে তারা অত্যন্ত শক্তিশালী সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করছেন।

 

- বিবিসি