সোমবার, জুন ৮, ২০২৬
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদির বিমানঘাঁটিতে বিকট বিস্ফোরণ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জল্পনা ও ইরানের কড়া প্রত্যাখ্যান

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ জুন, ২০২৬, ১২:০৮ এএম

সৌদির বিমানঘাঁটিতে বিকট বিস্ফোরণ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জল্পনা ও ইরানের কড়া প্রত্যাখ্যান
ছবি : Collected

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের উপকণ্ঠে অবস্থিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আল-খারজ বিমানঘাঁটিতে এক রহস্যময় ও ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

 

সোমবার (৮ জুন) সকালে এই সামরিক ঘাঁটিটিতে সম্ভাব্য একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসার আশঙ্কায় আকস্মিক জরুরি সতর্ক সংকেত বাজানো হয়। সতর্কতা জারির মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা কাঁপিয়ে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

এই অপ্রত্যাশিত ও আকস্মিক ঘটনার পর ওই অঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তা উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সামরিক স্থাপনাটি সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

 

ফলে, সেখানে হামলার যেকোনো শঙ্কা সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই গভীর ভীতির সঞ্চার করেছে। বিস্ফোরণের প্রাথমিক খবর চারপাশে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত বিস্তর ক্ষতি এড়াতে দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও বেসামরিক প্রশাসন।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জরুরি নির্দেশ প্রদান করা হয়। তবে এই চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের কয়েক ঘণ্টা পর সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে জনমনে স্বস্তি ফেরানোর চেষ্টা করা হয়।

 

ওই বিবৃতিতে প্রশাসন আশ্বস্ত করে জানায় যে, আল-খারজ এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সৃষ্ট প্রাথমিক নিরাপত্তা ঝুঁকি ও যাবতীয় বিপদ সম্পূর্ণভাবে কেটে গেছে। বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি কর্তৃপক্ষের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

তা সত্ত্বেও, ঠিক কী ধরনের সুনির্দিষ্ট সামরিক হুমকি বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির প্রেক্ষাপটে এমন সর্বোচ্চ পর্যায়ের জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল এবং ওই বিকট বিস্ফোরণের প্রকৃত উৎস বা কারণ কী ছিল, সে বিষয়ে সরকারি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য, প্রমাণ বা সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

 

এদিকে, সৌদি আরবের মতো একটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রের অত্যন্ত সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটিতে এমন রহস্যময় বিস্ফোরণের ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক জল্পনাকল্পনা শুরু হয়ে যায়।

 

বিশেষ করে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই ঘটনার সঙ্গে আঞ্চলিক পরাশক্তি ইরানের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে জোর আলোচনা ওঠে। তবে তেহরান এই সমস্ত আন্তর্জাতিক অভিযোগ ও সন্দেহ অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে এবং তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

 

ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সোমবার সৌদি আরবের সার্বভৌম ভূখণ্ডে বা তাদের কোনো সামরিক স্থাপনায় তারা কোনো ধরনের হামলা চালায়নি।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বা সরকারি বার্তাসংস্থা আইআরআইবি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশটির এক পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এই হামলার যাবতীয় অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

 

তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, সৌদি আরবের আল-খারজ বিমানঘাঁটিতে সংঘটিত এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিস্ফোরণের সঙ্গে ইরানের কোনো সামরিক, কৌশলগত বা রাজনৈতিক যোগসূত্র নেই।

 

- মিডল ইস্ট আই