রবিবার, জুন ৭, ২০২৬
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ জুন, ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র তাদের কাছে থাকা ইরানের জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ আর্থিক সম্পদ মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর পুনর্গঠন এবং ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের কাজে ব্যবহারের একটি যুগান্তকারী পরিকল্পনা বিবেচনা করছে।

 

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কুয়েত এবং বাহরাইনের ওপর সম্প্রতি ইরান যে আক্রমণ চালিয়েছে, তার প্রেক্ষাপটেই ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছে।

 

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইতোমধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ দলকে ইরানের এহেন হামলার ফলে উপসাগরীয় মিত্রদের ঠিক কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিরূপণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইরানের দ্বারা সৃষ্ট যেকোনো সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় এই জব্দকৃত সম্পদ কীভাবে কাজে লাগানো যায়, মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে।

 

শুধু স্থগিত রাখা সম্পদই নয়, বরং ইরান-সম্পর্কিত আরও বিস্তৃত আর্থিক সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের এমন পরিকল্পনার খবর এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ী সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা দুই হাজার চারশো কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ নিঃশর্তভাবে মুক্তি না পেলে চলমান শান্তি আলোচনা কোনোভাবেই আলোর মুখ দেখবে না।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন, সম্ভাব্য যেকোনো সমঝোতার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো এই বিপুল অর্থ ছাড় করা। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রশাসনের নতুন এই পরিকল্পনা তেহরানের দাবির সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে।

 

ইরানের নিজস্ব সম্পদ তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের এই মার্কিন উদ্যোগ চলমান শান্তি আলোচনাকে আরও জটিলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

 

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা বর্তমানে কার্যত সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। এই অচলাবস্থার মাঝেই উভয় দেশের মধ্যে নতুন করে তীব্র সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

 

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে যে, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে ওঠা ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা বেশ কয়েকটি ড্রোন তারা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।

 

এর পরপরই মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালির গোরুক এবং কেশম দ্বীপে অবস্থিত ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় সরাসরি হামলা চালায়। এই আকস্মিক হামলার জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে।

 

কুয়েতের সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে উড়ে আসা অন্তত সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও কিছু স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

 

অন্যদিকে, বাহরাইনেও হামলার আশঙ্কায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয় এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কুয়েত ও বাহরাইন উভয় দেশই এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

 

এই প্রবল উত্তেজনার মধ্যেই সংঘাত এড়াতে পরোক্ষ মাধ্যমে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের একজন মন্ত্রী সম্প্রতি তেহরানে পৌঁছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কাছে একটি বিশেষ বার্তা হস্তান্তর করেছেন এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।

 

ইরান বর্তমানে তাদের তেল রপ্তানি আয়ের অর্থে অবাধ প্রবেশাধিকার, তেল রপ্তানিতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের অধিকতর নিয়ন্ত্রণের দাবি জানাচ্ছে।

 

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং যুদ্ধের নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রবল রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন।

 

তিনি দাবি করেছেন যে, ইরানের অধিকাংশ সমরাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস করা হলেও তাদের হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র রয়ে গেছে। ফলে কোনো পক্ষই দৃশ্যত ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট নিরসন এখনো বহুদূর বলেই মনে হচ্ছে।

 

- রয়টার্স