ইরান ও ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ বাহিনীর মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের শততম দিনে গত শনিবার গভীর রাতে তিনি ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছান। কূটনৈতিক এই জরুরি সফরের পরপরই পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে রোববার এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সফর প্রসঙ্গে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়াও চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের যৌথ পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উদ্দেশ্যে পাঠানো একটি বিশেষ কূটনৈতিক চিঠি হস্তান্তর করা।
ওলন্দাজ ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যখন নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এবং অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে পাকিস্তানের এই শীর্ষ কর্মকর্তার তেহরান সফরকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম রোববার এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সরাসরি হুমকি তৈরি করার কারণে ইরানের দুটি সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
এই অঞ্চলে ক্রমাগত পাল্টাপাল্টি সামরিক আক্রমণ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করলেও যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে দুই দেশের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
তবে সংঘাতের মূল কারণগুলো নিয়ে গভীর মতপার্থক্য থাকায় কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি। আমেরিকার রাজনৈতিক অবস্থানের ক্ষেত্রেও এক ধরনের দ্বিমুখী নীতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কখনো নতুন করে কঠোর সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, আবার কখনো বা কূটনৈতিক সাফল্যের ব্যাপারে প্রবল আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।
এর আগে গত বুধবার মার্কিন প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ ইরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। তবে চলমান এই শান্তি আলোচনার প্রধান অমীমাংসিত সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ব্যাংকে অবরুদ্ধ থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ আর্থিক সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়টি।
তেহরান তাদের নিজস্ব অর্থ সম্পূর্ণভাবে ফেরত পাওয়ার দাবিতে অনড় থাকলেও মার্কিন প্রশাসনের ভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। ওয়াশিংটন মূলত মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক হামলায় যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এবং সেই দেশগুলোর পুনর্গঠন কাজের ব্যয় নির্বাহে ইরানের এই জব্দকৃত অর্থ ব্যবহার করার নীতিগত পরিকল্পনা করছে। ফলে এই মতবিরোধের কারণে শান্তি আলোচনায় একটি বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।