রবিবার, জুন ৭, ২০২৬
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবরুদ্ধ ২,৪০০ কোটি ডলার ছাড় না দিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ জুন, ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

অবরুদ্ধ ২,৪০০ কোটি ডলার ছাড় না দিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়
ছবি : Collected

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তেহরানের আটকে থাকা দুই হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সম্পদ ছাড়ের ওপর। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন যদি নতুন করে সামরিক সংঘাতে জড়ায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্ধকার গলিতে প্রবেশ করবে। মহসেন রেজাই জানান, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যকার আলোচনায় একধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছে এবং এই অচলাবস্থা ভাঙার দায়িত্ব এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

 

তেহরানের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যে, অন্তর্বর্তীকালীন কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই অবরুদ্ধ তহবিলের এক হাজার ২০০ কোটি ডলার ছাড় দিতে হবে। অবশিষ্ট অর্থ পরবর্তী ধাপে পর্যায়ক্রমে অবমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে ইরান।

 

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এমন পদক্ষেপের বিষয়ে গভীর সতর্কতা অবলম্বন করছেন। তাদের আশঙ্কা, চুক্তির আগেই বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড় দেওয়া হলে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের সবচেয়ে কার্যকর কূটনৈতিক হাতিয়ারটি যুক্তরাষ্ট্রের হাতছাড়া হয়ে যাবে।

 

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার জোর দিয়ে বলছেন, নতুন কোনো চুক্তি হলে তা পূর্ববর্তী চুক্তির চেয়ে অনেক বেশি কঠোর হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চান না যা ইরানের হাতে বিপুল অর্থ তুলে দেওয়ার মতো দেখায়।

 

রেজাইয়ের মতে, আটকে থাকা অর্থ মুক্ত করা হলে তা দুই দেশের মধ্যে আস্থা নির্মাণের ক্ষেত্রে একটি নতুন সুযোগ তৈরি করবে। বিষয়টিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এই অর্থ সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিজস্ব সম্পদ, যুক্তরাষ্ট্রের নয়।

 

পাশাপাশি নতুন সংঘাতের বিষয়ে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় হামলা চালায়, তবে ইরান সেই সংঘাতকে কেবল পারস্য উপসাগরে সীমাবদ্ধ রাখবে না।

 

বরং হরমুজ প্রণালি, ভারত মহাসাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর থেকে শুরু করে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত সামরিক অভিযান বিস্তৃত করা হবে। আগের হামলাগুলোর বাইরে আরও অনেক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন, যদিও আপাতত নতুন করে যুদ্ধ শুরুর সম্ভাবনা কম বলে তিনি মনে করেন।

 

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির ওপর শুধু ইরান ও ওমানের সার্বভৌমত্ব রয়েছে বলে দাবি করেন রেজাই। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

 

জাহাজ চলাচলের জন্য সম্ভাব্য ফি আদায়ের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে এটি কোনো টোল নয়, বরং প্রণালির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের একটি অংশ মাত্র। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মোজতবা খামেনির সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকের গুঞ্জন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন এই সামরিক উপদেষ্টা।

 

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনির সঙ্গে তার ভালো সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়ে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করলেও রেজাই জানান, এমন কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ আলোচনা এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ট্রাম্প নিজেই এই প্রক্রিয়াকে অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছেন।

 

- সিএনএন