রবিবার, জুন ৭, ২০২৬
২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়- ইরান

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ জুন, ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়- ইরান
ছবি : Collected

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের ভবিষ্যৎ শান্তি চুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে নিজেদের আটকে থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ দ্রুত ছাড়ের দাবি জানিয়েছে ইরান।

 

দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অন্যতম জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এই শর্ত তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, জব্দকৃত এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিঃশর্তভাবে ফেরত দেওয়া ছাড়া ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের নতুন করে কোনো সমঝোতায় যাওয়ার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই।

 

মোহসেন রেজায়ি এই সম্পদ ছাড়ের বিষয়টিকে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সদিচ্ছা এবং বিশ্বাসের একটি চূড়ান্ত পরীক্ষা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

 

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সামরিক উত্তেজনার এই স্পর্শকাতর সময়ে মোহসেন রেজায়ি এক কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি এই অঞ্চলে নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধের সূচনা হয়, তবে তার বিস্তৃতি কেবল পারস্য উপসাগরের নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

 

বরং সেই ধ্বংসাত্মক সংঘাত লোহিত সাগর, ভূমধ্যসাগর এবং ভারত মহাসাগর পর্যন্ত এক বিশাল অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা পুরো বিশ্বের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য এক ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।

 

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্প্রতি কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ইরানের সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার যে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে, ঠিক এমন এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝেই ওয়াশিংটনের কৌশলগত ব্যর্থতার প্রসঙ্গটি সামনে এনেছেন খামেনির আরেক প্রভাবশালী উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ধারাবাহিক ও জোরালো চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বনির্ধারিত সব কৌশল পুরোপুরি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

 

তাঁর দাবি, সামরিক ক্ষেত্রে ইরানের অভাবনীয় শক্তি বৃদ্ধির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কার্যত বাধ্য হয়েই হরমুজ প্রণালি পুনরায় বিশ্ববাণিজ্যের জন্য চালু করতে একটি অস্থায়ী সমঝোতার পথ খুঁজছেন।

 

আলি আকবর ভেলায়াতি তাঁর বিশ্লেষণে আরও যুক্ত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পিছু হটা মূলত ইরানের ওপর তাদের দীর্ঘদিনের একতরফা চাপ প্রয়োগের নীতির চরম ব্যর্থতারই একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ।

 

একই সঙ্গে তিনি এটিকে ইরানের প্রতিরোধকামী শক্তির এক ঐতিহাসিক এবং বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে দাবি করেছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অনড় অবস্থান এবং নেতাদের এমন আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, যেখানে যেকোনো ছোট স্ফুলিঙ্গ এক বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের জন্ম দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।