তাঁর মতে, তেহরানের কাছে এখন তাদের পূর্ববর্তী ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের মাত্র ২১ থেকে ২২ শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে। এছাড়া দেশটির বেশিরভাগ ড্রোন তৈরির প্রধান প্রধান কারখানা ইতিমধ্যেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জোরালোভাবে উল্লেখ করেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। আগামী রবিবার সাক্ষাৎকারটি পূর্ণাঙ্গভাবে সম্প্রচারিত হওয়ার কথা থাকলেও গত শুক্রবার এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রকাশ করা হয়।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনীর নিখুঁত ও শক্তিশালী হামলায় ইরানের বেশিরভাগ ড্রোন কারখানা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং মূল উৎপাদন এলাকাগুলো সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে।
তবে দেশটির সামরিক সক্ষমতা বা প্রতিরোধ ব্যবস্থা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানের কাছে এখনও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন অবশিষ্ট রয়েছে। শতাংশের হিসেবে তা হয়তো ২১ থেকে ২২ শতাংশের কাছাকাছি হবে।
সংখ্যাগত দিক থেকে এটি অনেক বড় মনে হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দফা হামলার আগের পরিস্থিতির তুলনায় তা অত্যন্ত নগণ্য এবং দুর্বল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের জন্য ইরান কেন এখনও কোনো শান্তি চুক্তিতে সম্মত হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাদের জাতীয় অহংকারকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
ট্রাম্পের দাবি, চরম সংকটের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও ইরানিরা বেশ অহংকারী মনোভাব প্রদর্শন করছে। তবে এমন কিছু কঠিন বিষয় রয়েছে যা তারা অতীতে কখনো করার কথা ভাবেনি, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন তাদের তা বাধ্য হয়েই করতে হবে।
ওয়াশিংটনের চাপ অগ্রাহ্য করার মতো কোনো বিকল্প পথ আসলে তেহরানের সামনে খোলা নেই, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তাদের কিছুটা সময় লাগছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর একটি কার্যকর ও উন্নত চুক্তি করতে না পারার ব্যর্থতা নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, এই ধরনের জটিল আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমঝোতা সম্পন্ন করতে বহু বছর সময় লেগে যায়। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো গত ৪৭ বছর ধরে বিভিন্ন দ্বন্দ্বে লিপ্ত রয়েছে, তাই রাতারাতি সব বিষয়ের সমাধান বা পরিবর্তন সম্ভব নয়।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কৌশলের সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি ইরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি বড় প্রচেষ্টা। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য জানানো হয়নি।