তিনি লেবাননের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটিকে তার প্রকৃত শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য অত্যন্ত জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লেবাননের প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করার পাশাপাশি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই দীর্ঘ পোস্টে আব্বাস আরাকচি অত্যন্ত ব্যঙ্গাত্মক সুরে লেবাননের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কথা শুনে মনে হচ্ছে যেন ইরানই লেবাননের এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড জবরদখল করে রেখেছে।
শুধু তা-ই নয়, আরাকচি আক্ষেপের সুরে উল্লেখ করেন, আউনের বক্তব্যে এমন অবাস্তব ইঙ্গিত পাওয়া যায় যেন ইরানই লেবাননের মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ মানুষকে তাদের নিজ বাসভূমি থেকে সম্পূর্ণ বাস্তুচ্যুত করেছে এবং প্রতিদিন লেবাননের নিরীহ মানুষের ওপর নির্মমভাবে বোমাবর্ষণ করে চলেছে।
মূলত লেবাননের ওপর অন্য রাষ্ট্রের আগ্রাসন ও দখলদারিত্বের প্রকৃত নির্মম চিত্রটি তুলে ধরতেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই ধরনের তীক্ষ্ণ ও রূপক ভাষার আশ্রয় নিয়েছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
লেবানন ও ইরানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে লেবাননের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নেরও সুস্পষ্ট জবাব দিয়েছেন আব্বাস আরাকচি।
তিনি জোরালো ভাষায় স্পষ্ট করে বলেন যে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে লেবানন যদি ইরানের কাছে কেবলই একটি দরকষাকষির হাতিয়ার বা নিজেদের স্বার্থ আদায়ের কোনো মাধ্যম হতো, তবে তেহরান অনেক আগেই নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এ বিষয়ে কোনো না কোনো আপস বা সমঝোতায় পৌঁছে যেত।
এর মাধ্যমে তিনি বিশ্ববাসীকে বোঝাতে চেয়েছেন যে, লেবাননের নিজস্ব সার্বভৌমত্ব এবং সেখানকার সাধারণ জনগণের প্রতি ইরানের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে এবং তারা লেবাননকে কোনো রাজনৈতিক দাবার ঘুঁটি হিসেবে কখনোই ব্যবহার করছে না।
বার্তার একেবারে শেষ অংশে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি লেবাননের প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ করে অত্যন্ত সংবেদনশীল অথচ দৃঢ় ভাষায় বলেন, “জনাব প্রেসিডেন্ট, লেবাননকে তার প্রকৃত শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করুন।”
এই সংবেদনশীল মন্তব্যের মধ্য দিয়ে আব্বাস আরাকচি মূলত লেবাননের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা এবং বহিরাগত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর অপরিহার্যতার ওপর জোর দিয়েছেন।
তাঁর এই তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি অত্যন্ত জটিল, অস্থিতিশীল ও সংবেদনশীল একটি পর্যায় অতিক্রম করছে।