আমেরিকার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানি নেতৃত্ব অত্যন্ত শক্তিশালী এবং গর্বিত মনোভাব প্রদর্শন করছে। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত একটি কার্যকর চুক্তিতে উপনীত হওয়া ছাড়া তেহরানের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।
ট্রাম্পের মতে, সুদীর্ঘ কয়েক দশকের পারস্পরিক বৈরিতা ও মতভেদ একদিনে নিরসন করা সম্ভব নয়। ফলে একটি স্থায়ী ও টেকসই সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে দুই পক্ষকেই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে এবং এর জন্য পর্যাপ্ত ধৈর্যের প্রয়োজন।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দুই দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটা পালটাপালটি সামরিক হামলার ঘটনা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিরোধকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও দুই দেশের নীতিনির্ধারকেরা যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি টানতে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযানের ফলে ইরানের সামরিক অবকাঠামো এবং সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন হামলায় দেশটির অধিকাংশ ড্রোন তৈরির কারখানা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং প্রধান উৎপাদন স্থাপনাগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। তবে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, ইরানের সামরিক শক্তি কার্যত দুর্বল করা হলেও তাদের হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র অবশিষ্টাংশ রয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে ইরানের যে পরিমাণ সমরাস্ত্র ছিল, তার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অর্থাৎ ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের একটি দ্রুত এবং শান্তিপূর্ণ সমাধান ওয়াশিংটন প্রত্যাশা করলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মনে করেন ট্রাম্প। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা অর্জন করা থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা।
তেহরান যদি শেষ পর্যন্ত শান্তি চুক্তির টেবিলে বসতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে ওয়াশিংটন বিকল্প পন্থায় হাঁটতে বাধ্য হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এই সম্ভাব্য বিকল্প পথটি ইরানের জন্য মোটেও সুখকর বা কল্যাণকর হবে না বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ফলে একটি টেকসই আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমেই এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে হোয়াইট হাউস।