রবিবার, জুন ৭, ২০২৬
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খামেনির মৃত্যুর ১০০ দিন পার হলেও হয়নি দাফন, নতুন উত্তরসূরিকে ঘিরে ঘনীভূত রহস্য

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ জুন, ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

খামেনির মৃত্যুর ১০০ দিন পার হলেও হয়নি দাফন, নতুন উত্তরসূরিকে ঘিরে ঘনীভূত রহস্য
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইতোমধ্যে একশ দিন পেরিয়ে গেছে। অথচ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির নেতৃত্ব দেওয়া এই প্রভাবশালী নেতার দাফন প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি।

 

দীর্ঘ এই বিলম্ব দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নানা প্রশ্ন ও গভীর রহস্যের জন্ম দিয়েছে। এরই মাঝে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবার স্থলাভিষিক্ত করা হলেও পুরো পরিস্থিতি এক অস্বাভাবিক ধোঁয়াশার মধ্যে আটকে আছে।

 

একই সামরিক হামলায় নিহত অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দাফন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু খামেনির ক্ষেত্রে ইরান কর্তৃপক্ষ বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করতে পারেনি।

 

তেহরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন যে, সর্বোচ্চ নেতার মরদেহ চূড়ান্তভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে সমাহিত করার আগে দেশের একাধিক শহরে বিশাল শোক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখন পর্যন্ত সেই শোভাযাত্রার কোনো চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।

 

এমনকি বর্তমানে তাঁর মরদেহ ঠিক কোথায় এবং কী অবস্থায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়েও রাষ্ট্রীয়ভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। শিয়া ইসলামিক ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, সাধারণত মৃত্যুর পরপরই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মৃতদেহ দাফন করার সুস্পষ্ট নিয়ম রয়েছে।

 

বিশেষ কোনো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া এমন দীর্ঘস্থায়ী বিলম্ব তাই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলের বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দাফনে এই নজিরবিহীন বিলম্বের পেছনের অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে ইরানের নতুন নেতৃত্বের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গভীর উদ্বেগ।

 

খামেনির উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি সেই ভয়াবহ ইসরায়েলি-মার্কিন হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত একবারের জন্যও জনসমক্ষে আসেননি। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই হামলায় তিনি বেঁচে গেছেন এবং কেবল সামান্য আহত হয়েছেন।

 

তবে তাঁর প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে। ইরানে সর্বোচ্চ নেতার দাফন সাধারণত কেবল একটি ধর্মীয় আচারই নয়, বরং এটি একটি বিশাল রাজনৈতিক ঘটনা, যার মাধ্যমে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রদর্শন করা হয়।

 

এ ধরনের বিশাল জনসমুদ্রে মোজতবা খামেনির উপস্থিতি স্বভাবতই ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করবে, যা এই মুহূর্তে তাঁর জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

 

অন্যদিকে, এই দীর্ঘায়িত বিলম্ব আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহের প্রকৃত অবস্থা নিয়েও নানা সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। হামলায় তাঁর মরদেহের মারাত্মক কোনো ক্ষতি হওয়ায় দাফনের প্রস্তুতি জটিল হয়ে পড়েছে কি না, সে বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করছে।

 

উল্লেখ্য, ওই হামলায় নিহত অন্যান্য কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লেগেছিল এবং পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হয়েছিল।

 

ঐতিহাসিকভাবেই ইরানের জ্যেষ্ঠ নেতাদের দাফন প্রক্রিয়া ব্যাপক রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে। এর আগে রেভল্যুশনারি গার্ডসের শীর্ষ কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশাল শোকযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল, যা জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে প্রচার করা হয়।

 

খামেনির ক্ষেত্রেও অনুরূপ বিশাল আয়োজনের প্রত্যাশা থাকলেও বর্তমানের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সেই সম্ভাবনাকে কঠিন করে তুলেছে। ক্ষমতার হস্তান্তর এবং ঐতিহাসিক বিদায়-উভয় ইস্যুই এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

 

- টাইমস অব ইন্ডিয়া