'অপারেশন নাসর' নামের এই বিশেষ সামরিক অভিযানের আওতায় ইসরায়েলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত দুটি সামরিক বিমান ঘাঁটিতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতময় ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে এই হামলা পুরো অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধের গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। সোমবার মেহের নিউজের প্রকাশিত এক বিস্তৃত প্রতিবেদনে ইরানের এই পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, 'অপারেশন নাসর' নামের এই সামরিক পদক্ষেপের মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ইসরায়েলের নেভাতিম এবং তেল নফ নামের দুটি প্রধান ও সর্বাধুনিক বিমান ঘাঁটিকে।
সামরিক এবং ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে এই ঘাঁটি দুটি ইসরায়েলের জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের দক্ষ যোদ্ধারা এই দুই ঘাঁটির একেবারে প্রাণকেন্দ্রে তাদের সামরিক সক্ষমতার সরাসরি প্রদর্শন ঘটাচ্ছে।
সম্প্রতি ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার স্থাপনায় ইসরায়েলি বাহিনীর আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সরাসরি এবং তাৎক্ষণিক জবাব হিসেবেই এই জোরালো সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে দৃঢ়ভাবে জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালনার পেছনে সামরিক কৌশলের পাশাপাশি একটি গভীর আবেগিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটও কাজ করছে। আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, বিগত ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে যে সকল বীর যোদ্ধারা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন, মূলত সেই সকল শহীদদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
সোমবার ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই 'ইয়া হায়দার কারার' সাংকেতিক নাম ব্যবহারের মাধ্যমে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও কঠোর সামরিক শৃঙ্খলার সাথে এই আকস্মিক হামলা শুরু করা হয়, যা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
এই অভাবনীয় সামরিক পদক্ষেপের আইনি ও ধর্মীয় যৌক্তিকতা তুলে ধরে আইআরজিসি একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার ওপর অবিচল আস্থা রেখে তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স নেভাতিম এবং তেল নফের মতো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিমান ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্রগুলোতে সফলভাবে 'অপারেশন নাসর' শুরু করেছে।
নিজেদের অধিকার রক্ষার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে গিয়ে বিবৃতিতে পবিত্র কুরআনের একটি আয়াতের উদ্ধৃতিও দেওয়া হয়েছে। ওই আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যারা অন্যায়ভাবে আক্রান্ত ও নির্যাতিত হয়েছে, নিজেদের আত্মরক্ষার্থে তাদের অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং মহান আল্লাহ অবশ্যই নির্যাতিতদের সহায়তা করবেন।
একইসাথে, শত্রু পক্ষের যেকোনো ভবিষ্যৎ আগ্রাসন বা পাল্টা হামলার অত্যন্ত কঠোর ও চূড়ান্ত জবাব দিতে আইআরজিসির সকল স্তরের যোদ্ধা এবং আভিযানিক দল সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে বলে বিবৃতিতে একটি জোরালো ও দ্ব্যর্থহীন সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে।