সোমবার, জুন ৮, ২০২৬
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের সাথে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য চুক্তি মেনে নিতে হবে ইসরায়েলকে, ট্রাম্প

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ জুন, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম

ইরানের সাথে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য চুক্তি মেনে নিতে হবে ইসরায়েলকে, ট্রাম্প
ছবি : Collected

মধ্যপ্রাচ্যের চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই চিরসবুজ মিত্র ইসরায়েলের প্রতি এক নজিরবিহীন ও কঠোর বার্তা প্রদান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো ধরণের চুক্তিতে উপনীত হলে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তা বাধ্যতামূলকভাবে মেনে নিতে হবে বলে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন।

 

আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক এখতিয়ার কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্টের এবং এই ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর সামনে ভিন্ন কোনো বিকল্প খোলা থাকবে না।

 

সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অবিরাম সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই ঘটনার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন চাঞ্চল্যকর বক্তব্য প্রকাশ্যে এলো।

 

উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে মার্কিন মধ্যস্থতায় ইরানের সাথে যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা প্রায় সম্পূর্ণ কার্যকারিতা হারিয়েছে।

 

তবে উদ্ভূত এই সামরিক সংঘাত সত্ত্বেও তেহরানের সাথে ওয়াশিংটনের চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যাহত হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। তিনি এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক বিরোধের অংশ হিসেবে অভিহিত করে একে আলোচনার ক্ষেত্রে বড় কোনো প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখছেন না।

 

এদিকে ইরান নীতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বিদ্যমান গভীর মতানৈক্যের বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।

 

কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, গত সপ্তাহে দুই নেতার মধ্যে একটি অত্যন্ত উত্তপ্ত ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর যুদ্ধংদেহী মনোভাবের তীব্র সমালোচনা করেন।

 

মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির প্রধান শর্ত ছিল মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপরও সমস্ত রাজনৈতিক ও সামরিক আক্রমণ পুরোপুরি বন্ধ রাখা।

 

কিন্তু ইসরায়েল সেই শর্ত লঙ্ঘন করে লেবাননে সামরিক আগ্রাসন অব্যাহত রাখায় পুরো শান্তি প্রক্রিয়াটি গভীর সংকটে পড়ে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তি এবং যুদ্ধ অবসানের পক্ষে অবস্থান নিলেও, নেতানিয়াহু সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অনড় রয়েছেন।

 

ফলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কে এক বড় ধরণের ফাটল ও প্রকাশ্য টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর ট্রাম্প ইসরায়েলকে পাল্টা আঘাত না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু মার্কিন অনুরোধ উপেক্ষা করেই ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ইরানের বেশ কয়েকটি শহরের শিল্প ও সামরিক স্থাপনায় অতর্কিত হামলা চালায়।

 

এই প্রতিকূলতার মধ্যেও ট্রাম্প একটি চূড়ান্ত চুক্তির ব্যাপারে নিজের আত্মবিশ্বাস ধরে রেখেছেন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজের মধ্যস্থতাকারী ভাবমূর্তি বজায় রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসক