সোমবার, জুন ৮, ২০২৬
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েল ও ইরানকে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ জুন, ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

ইসরায়েল ও ইরানকে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের
ছবি : Collected

মধ্যপ্রাচ্যের চরম ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও চিরবৈরী দুই প্রতিবেশী দেশ ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া তীব্র সামরিক সংঘাত অবিলম্বে বন্ধের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্ট পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান। ট্রাম্প তাঁর ওই বার্তায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ইসরায়েল ও ইরান উভয় পক্ষকেই অবিলম্বে এই পারস্পরিক সামরিক আক্রমণ ও গোলাগুলি বন্ধ করতে হবে।

 

এর পাশাপাশি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তেহরানের সঙ্গে একটি টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হলে ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে এবং ইউরেনিয়াম ধ্বংসে সরাসরি সহযোগিতা করবে ওয়াশিংটন।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘ তিন মাস ধরে চলা এই ধ্বংসাত্মক আঞ্চলিক যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে এক নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, তেহরানের সঙ্গে একটি সফল চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হলে ইরান যাতে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদে উদ্ধার ও ধ্বংস করতে পারে, সেই বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন পূর্ণ কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা প্রদান করবে।

 

তবে এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি তিনি একটি কঠোর সামরিক সতর্কবার্তাও উচ্চারণ করেছেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি শেষ পর্যন্ত কোনো কার্যকর চুক্তি অর্জিত না হয়, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে এমনভাবে দুর্বল ও গুঁড়িয়ে দেবে, যাতে মার্কিন সেনারা নিজেরাই সম্পূর্ণ নিরাপদে এবং নিশ্চিতভাবে সেই পারমাণবিক উপাদানগুলো জব্দ ও সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়।

 

এনবিসি নিউজের বিখ্যাত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া ওই বিস্তারিত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কৌশলগত অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, যদি একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি বন্ধুভাবাপন্ন ও সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়, তবে সবাই একসঙ্গে কাজ করবে।

 

সেই পরিস্থিতিতে মার্কিন অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে ঘটনাস্থলে কিংবা অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়ে ওই পারমাণবিক উপাদানগুলো চিরতরে ধ্বংস করা হবে।

 

তিনি আরও যোগ করেন যে, এই লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে ইরানকে সাথে নিয়ে অগ্রসর হবে, অন্যথায় তাদের ছাড়াই নিজস্ব উপায়ে এই কাজ সম্পন্ন করবে। তবে মার্কিন স্বার্থ বা বাহিনীর ওপর কোনো ধরনের আঘাত বরদাশত করা হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

 

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, যদি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি না হয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যা ওয়াশিংটনের জাতীয় নিরাপত্তা সম্পূর্ণ নিশ্চিত করবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম উত্তেজনার পর গত এপ্রিল মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি অত্যন্ত নাজুক ও সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।

 

শান্তিকামী বিশ্ববাসী এই চুক্তিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, সম্প্রতি লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ধারাবাহিক ও তীব্র সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতে রবিবার রাতে ইসরায়েলি মূল ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নতুন করে আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।

 

এই হামলার জবাবে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীও ইরানের বিভিন্ন শহরের কৌশলগত ও শিল্প স্থাপনায় পাল্টা বিমান হামলা শুরু করেছে। দীর্ঘ বিরতির পর চিরবৈরী দুই শত্রুপক্ষের এই ভয়াবহ ও অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা-পাল্টা হামলার কারণে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল জুড়ে আবারও এক গভীর যুদ্ধাবস্থা এবং চরম আন্তর্জাতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

 

- এনবিসিবি নিউজ