তবে উদ্ভূত এই চরম সংকটজনক পরিস্থিতির মধ্যেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, এই আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রস্তাবিত শান্তি ও যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেন, এই শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ এবং সার্বিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তাঁর ওপরই ন্যস্ত এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই কূটনৈতিক আলোচনায় কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রাখেন না।
এদিকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরানের এই সাম্প্রতিক ও ব্যাপকভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বেশ কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা সামরিক কৌশলগত বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
এই হামলার বিষয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সামরিক বাহিনী তথা ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, উত্তর ইসরায়েলের নাজারেথ শহরের নিকটবর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রামাট ডেভিড বিমানঘাঁটিকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু করে তারা এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে যে, ইরান থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে শনাক্ত এবং মাঝ আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে, যার ফলে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
তবে এই দ্বিপাক্ষিক সংঘাতের প্রভাব কেবল এই দুই দেশের সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং আঞ্চলিক অস্থিরতার সুযোগে ইয়েমেন থেকেও ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
এই ভূ-রাজনৈতিক অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিরতার সরাসরি ও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে। সপ্তাহের শুরুতে সোমবার লেনদেনের প্রথম প্রহরেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় দুই শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই প্রধান দুই শক্তির মধ্যকার সংঘাত যদি দ্রুত কূটনৈতিক উপায়ে প্রশমিত করা না যায়, তবে তা কেবল একটি আঞ্চলিক যুদ্ধেই রূপ নেবে না, বরং দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক শান্তি আলোচনাকেও সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দিতে পারে।
তবে মার্কিন প্রশাসনের এই ইতিবাচক ও দৃঢ় অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই সংকটের মধ্যেও একটি শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধানের পথ দেখাচ্ছে।