তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, নড়বড়ে জায়নবাদী শাসনব্যবস্থার হাতে আর মাত্র কয়েক দিন সময় অবশিষ্ট আছে। লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসনের পর তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে সংঘাত এক নতুন এবং বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে।
এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটে যখন লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ইসরায়েল অতর্কিত বিমান হামলা চালায়। এর প্রত্যক্ষ জবাবে সোমবার গভীর রাতে উত্তর ইসরায়েলে একাধিক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান।
তেহরানের এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাল্টা আক্রমণ চালায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ইসরায়েলি হামলার কারণে তেহরান, ইসফাহান এবং তাবরিজসহ ইরানের বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
একই সময়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এই পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের ধারাবাহিকতায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এক কঠোর বিবৃতিতে ইসরায়েলকে একটি বিপজ্জনক খেলায় মেতে ওঠার জন্য অভিযুক্ত করেছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই বাহিনী জানায়, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের বেসামরিক স্থাপনা এবং তেলশিল্পকে তাদের আক্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের মাহশাহর পেট্রোকেমিক্যাল প্রতিষ্ঠানে ইসরায়েলি বিমান হামলার ফলে আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
এই আগ্রাসনের সরাসরি জবাব হিসেবে ইরানের সামরিক বাহিনী উত্তর ইসরায়েলের বন্দরনগরী হাইফাতেও সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। সামরিক বাহিনীটি আরও সতর্ক করে বলেছে, চলমান এই সংঘাতের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার এই উত্তেজনার মূল ইন্ধনদাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে বিমান হামলা শুরু করলে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এই নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
সেই সময় আত্মরক্ষার তাগিদে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পাল্টা আঘাত হানে। পরবর্তীতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে গত আট এপ্রিল পাকিস্তানের সরাসরি মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর করা হয়েছিল।
কিন্তু পরবর্তীতে চুক্তি বাস্তবায়নের কাঠামোগত জটিলতা এবং অন্যান্য ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুতে পারস্পরিক গভীর মতবিরোধের কারণে সেই কাঙ্ক্ষিত শান্তি আলোচনা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে, যার ফলে বর্তমান এই সংঘাতের পুনরায় সূত্রপাত ঘটেছে।