সোমবার, জুন ৮, ২০২৬
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তেজনার মাঝেও অব্যাহত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ জুন, ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

উত্তেজনার মাঝেও অব্যাহত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা
ছবি : Collected

সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে তীব্র সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা শুরু হলেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এখনো বন্ধ হয়ে যায়নি।

 

সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই তেহরানে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে এই সংবেদনশীল তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রবিবার দুই দেশের মধ্যে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সামরিক উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সরাসরি কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে মুখপাত্র বিস্তারিত কিছু স্পষ্ট করেননি।

 

তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দুই দিন আগে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী মহসিন নাকভির আকস্মিক তেহরান সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সচল রাখা এবং মধ্যস্থতা সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিল রাজনৈতিক বিষয়গুলো সফলভাবে সম্পন্ন করতে ইরানকে সর্বাত্মক সহায়তা করা।

 

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এটি অত্যন্ত পরিষ্কার যে, বর্তমানে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।

 

এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ বার্তা ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনির কাছে ব্যক্তিগতভাবে পৌঁছে দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিনিধি মহসিন নাকভি।

 

যদিও গত ১ জুন থেকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের বা আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকটি ইরানি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার তীব্র প্রতিবাদে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমস্ত ধরণের কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান চিরতরে বন্ধ করে দেবে।

 

বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে, গত ৮ এপ্রিল বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই একটি দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটন নিয়মিতভাবে নিজেদের মধ্যে বার্তা বিনিময় করে আসছিল।

 

এই বিশেষ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই গত ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরানি এবং মার্কিন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে একটি ফলপ্রসূ সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

 

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি অত্যন্ত নাজুক ও সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর দীর্ঘ বিরতি শেষে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে গত রবিবার রাতে প্রথমবারের মতো নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।

 

মূলত লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার সরাসরি প্রতিশোধ নিতেই এই পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তেহরান। ইরানি এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীও ইরানের বিভিন্ন শহরের সামরিক ও শিল্প স্থাপনায় নতুন করে জোরালো বিমান হামলা শুরু করেছে।

 

চিরবৈরী এই দুই পরাশক্তির মধ্যকার চলমান তীব্র হামলা-পাল্টা হামলার কারণে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল জুড়ে এক গভীর ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও চরম আন্তর্জাতিক যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দুই দেশের পর্দার আড়ালের আলোচনা বিশ্বরাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

- বিবিসি