সোমবার, জুন ৮, ২০২৬
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলা, হুঁশিয়ারি তেহরানের

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ জুন, ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলা, হুঁশিয়ারি তেহরানের
ছবি : File Photo

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন স্থাপনার ওপর পরিচালিত ইসরায়েলি সামরিক বিমান হামলাগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের অত্যন্ত নিবিড় ও সরাসরি সমন্বয়ে চালানো হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছে তেহরান।

 

সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংবেদনশীল তথ্য নিশ্চিত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই রাজধানী তেহরানে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর এই ধারাবাহিক সামরিক আগ্রাসনের পেছনে ওয়াশিংটনের প্রত্যক্ষ দায়ভার এবং পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

 

সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলমান এই ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনা এবং এর ভবিষ্যৎ যেকোনো ধ্বংসাত্মক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই সম্পূর্ণ দায়ভার বহন করতে হবে বলে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও পারমাণবিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও ইরান এই মুহূর্তে নিজেদের কঠোর অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার অত্যন্ত কঠোর সমালোচনা করে ইরানি মুখপাত্র অভিযোগ করেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির বর্তমান অবস্থান সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং চরম দায়িত্বহীনতার সুস্পষ্ট পরিচায়ক।

 

এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মাঝেই সোমবার ভোরের দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে অবস্থিত একটি বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প কারখানায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে অতর্কিত বিমান হামলা চালানো হয়।

 

স্থানীয় ইরানি সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, এই আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক বিমান হামলার ফলে দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওই শিল্প কমপ্লেক্সটির বেশ কিছু অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

ইসরায়েলি এই নজিরবিহীন আগ্রাসনের জবাবে তেহরানও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইরানের দিক থেকে ছোড়া অসংখ্য প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে সোমবার সকাল থেকেই ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে দফায় দফায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে, যা ওই অঞ্চলের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করে।

 

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূলত গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষভাগ থেকে ইরানের সার্বভৌম ভূখণ্ড লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ভয়াবহ বিমান হামলা শুরু করার পর থেকেই সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে এক অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধাবস্থা ও চরম ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে।

 

সেই যৌথ হামলার তাৎক্ষণিক ও কঠোর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও কালবিলম্ব না করে ইসরায়েল এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের ওপর পাল্টা সামরিক আঘাত হেনেছিল।

 

ধারাবাহিক এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যস্থতায় গত আট এপ্রিল বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

 

শান্তিকামী বিশ্ববাসী এই চুক্তিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, চুক্তি বাস্তবায়নের শর্তাবলি নিয়ে দেখা দেওয়া নানামুখী গভীর বিতর্ক এবং আঞ্চলিক কূটনীতির দ্রুত পটপরিবর্তনের কারণে সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত শান্তি আলোচনা বর্তমানে পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়েছে।

 

চলমান পরিস্থিতি ও সামরিক তৎপরতা যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সহসাই শান্তি ফেরার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না, বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী ও সর্বাত্মক আন্তর্জাতিক সংঘাতের আশঙ্কা ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে।

 

- আনাদোলু এজেন্সি