সোমবার, জুন ৮, ২০২৬
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধের হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের শীর্ষ উপদেষ্টা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ জুন, ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম

গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধের হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের শীর্ষ উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই আগ্রাসনের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি সোমবার ভোরে এক কঠোর বার্তা প্রদান করেছেন।

 

তিনি জানিয়েছেন, বৈরুতে পরিচালিত ইসরায়েলি এই হামলার মধ্য দিয়ে মূলত প্রতিরোধকারী অক্ষের এক বৃহত্তর ও সুদূরপ্রসারী পাল্টা জবাবের ‘প্রথম ধাপ’ সক্রিয় করা হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উদ্বিগ্ন করে তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, ইসরায়েল যদি তাদের এই সামরিক আগ্রাসন আরও বৃদ্ধি করার পথ বেছে নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা আঞ্চলিক প্রতিরোধকারী জোটের রয়েছে।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আলী আকবর বেলায়েতি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির গভীরতা তুলে ধরেন। তিনি ইসরায়েলকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেন যে, কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদাব প্রণালীতে বর্তমানে যে নিরাপত্তাজনিত স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে, তাকে কোনোভাবেই তেল আবিবের ভুল সমীকরণ বা দুর্বলতা হিসেবে নেওয়া উচিত হবে না।

 

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম দুই প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মানদাব প্রণালীর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিরোধকারী অক্ষের উভয় সামুদ্রিক পথ অবরুদ্ধ করে দেওয়ার সামরিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি রয়েছে।

 

ইসরায়েলি প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি সরাসরি বলেন, হয় তাদের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত ও সামরিক আগ্রাসন অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, নতুবা দুটি প্রণালীকে কেন্দ্র করে এক নতুন, ধ্বংসাত্মক ও ভারসাম্যপূর্ণ সামরিক সমীকরণের মুখোমুখি হতে হবে।

 

এছাড়া তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কয়েকদিন আগেই যে সামরিক জবাবের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তা ‘জাত আল-সালাসিল’ নামক বিশেষ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে বাস্তব রূপ পেয়েছে।

 

এই শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন যে, বৈরুতের বুকে ইসরায়েলের আজকের এই হামলা চলমান যুদ্ধবিরতির একটি সুস্পষ্ট ও নির্লজ্জ লঙ্ঘন, যা মূলত ইরানের দিক থেকে সামরিক জবাবের প্রথম ধাপকে অনিবার্যভাবে ত্বরান্বিত করেছে।

 

উল্লেখ্য, গত রবিবার গভীর রাতে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলো লক্ষ্য করে ইরান থেকে একের পর এক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের ঝাঁক নিক্ষেপ করা হয়। লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলীতে ইসরায়েলি বিমান হামলার অব্যবহিত পরই প্রতিশোধমূলক এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে তেহরান।

 

ইসরায়েলি সামরিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, তাদের ওই সুনির্দিষ্ট হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর একটি প্রধান কমান্ড এবং কৌশলগত পরিকল্পনা কেন্দ্র।

 

তবে প্রাথমিক প্রতিবেদন ও চিকিৎসা সূত্র অনুযায়ী, ইসরায়েলের ওই প্রাণঘাতী বিমান হামলায় অন্তত দুজন নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আরও ১১ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।

 

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত এপ্রিল মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় অর্জিত একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ইরানের এটিই প্রথম সরাসরি ও বড় ধরনের হামলার ঘটনা।

 

গত ৮ এপ্রিল বিবদমান উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে এর শর্তাবলি ও বাস্তবায়ন নিয়ে নানামুখী মতবিরোধ দেখা দেয়।

 

এর পাশাপাশি আঞ্চলিক রাজনীতির দ্রুত পটপরিবর্তন ও সামরিক আধিপত্য বিস্তারের অব্যাহত চেষ্টার কারণে শান্তি আলোচনা কার্যত পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। বর্তমান এই পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা সেই থমকে থাকা শান্তি প্রক্রিয়ার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

- আনাদোলু এজেন্সি