ইসরায়েলের একজন প্রভাবশালী ও জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’ এক বিশেষ ও বিস্তারিত প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে।
মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বিরাজমান চরম সামরিক উত্তেজনা এবং দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতার মাঝে আকস্মিক এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে ব্যাপক কৌতূহল এবং গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মনে করছে, বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়ে থাকতে পারে। ইরানের অভ্যন্তরে সরাসরি সামরিক অভিযান আপাতত বন্ধ রাখা হলেও পার্শ্ববর্তী দেশ লেবাননের বিষয়ে নিজেদের কঠোর সামরিক অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসেনি তেল আবিব প্রশাসন।
চ্যানেল ১২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অত্যন্ত কড়া ভাষায় সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী শহর ও সাধারণ বেসামরিক জনবসতিগুলোতে তাদের ধারাবাহিক রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ অব্যাহত রাখে, তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এর চূড়ান্ত ও চরম প্রতিশোধ গ্রহণ করবে।
সেক্ষেত্রে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে অত্যন্ত ভয়াবহ, সুনির্দিষ্ট এবং ধ্বংসাত্মক বিমান হামলা চালানো হবে বলে তিনি সুস্পষ্ট ও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
টেলিভিশন চ্যানেলটির ওই সংবাদ প্রতিবেদনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর চলমান স্থল ও আকাশপথের আগ্রাসন আগামী বেশ কয়েক দিন সম্পূর্ণ শক্তিতে এবং পুরোদমে অব্যাহত থাকবে।
বিশেষ করে হিজবুল্লাহর সামরিক ঘাঁটি, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং অন্যান্য কৌশলগত অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলার তীব্রতা কিংবা পরিসর কমানোর কোনো ধরনের পরিকল্পনা বর্তমান ইসরায়েলি সামরিক প্রশাসনের নেই।
বরং, নিজেদের উত্তর সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা ও সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইসরায়েল যেকোনো ধরনের কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে অত্যন্ত জোরালো ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে।
তবে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ইসরায়েলি ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দেওয়া এসব অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য ও দাবিগুলো স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ কোনো সূত্রের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা এখনো সম্ভব হয়নি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি অনুরোধের বিষয়টি এবং ইরানে হামলা স্থগিত করার এই তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসন কিংবা ইসরায়েলের সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য বা নিশ্চিতকরণ বিবৃতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রদান করা হয়নি।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই অত্যন্ত জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পর্দার আড়ালের নানামুখী কূটনীতি এবং ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপের প্রকৃত রূপরেখা নিয়ে শান্তিকামী বিশ্ববাসীর মধ্যে এখনো গভীর উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ ও চরম ধোঁয়াশা বিরাজ করছে।