দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, অখণ্ডতা এবং সাধারণ নাগরিকদের সার্বিক শান্তি ও স্বস্তি নিশ্চিত করাকে বর্তমান প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন যে, কোনো ধরনের বাহ্যিক হুমকি বা অন্যায্য চাপের কাছে ইরান কখনোই মাথানত করবে না কিংবা পিছু হটবে না। বরং, যেকোনো মূল্যে ইরানি জাতির অধিকার ও আত্মমর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্র তার সর্বোচ্চ শক্তি ও সামর্থ্য নিয়ে সর্বদাই প্রস্তুত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এবং পার্সটুডের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, সোমবার এক বিশেষ ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান দেশের বর্তমান নীতি এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি দেশের সামরিক কৌশল ও কূটনৈতিক তৎপরতার এক চমৎকার ভারসাম্যপূর্ণ চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
তাঁর সুচিন্তিত মত অনুযায়ী, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের শক্তিশালী জাতীয় সক্ষমতা মূলত দুটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল, যার একটি হলো প্রখর কূটনীতি এবং অপরটি হলো সুদৃঢ় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে তিনি জাতীয় শক্তির দুটি অপরিহার্য ডানা হিসেবে অত্যন্ত সুন্দরভাবে আখ্যায়িত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের এই সময়োচিত বার্তা এমন এক সংবেদনশীল ও সংকটময় মুহূর্তে প্রকাশ্যে এল, যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং বিশেষ করে গোটা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এক চরম অস্থিতিশীলতা ও যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।
এই চরম প্রতিকূল ও বৈরী পরিবেশে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, ইরান যেমন নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিল কখনোই পরিত্যাগ করেনি, ঠিক তেমনি প্রয়োজনে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত আগ্রাসন রুখে দিতে রণক্ষেত্র থেকেও কখনো পিছু হটেনি।
এর অর্থ হলো, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মাতৃভূমি রক্ষার লড়াই- উভয় ক্ষেত্রেই সমান প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে তেহরান প্রশাসন।
বিবৃতির শেষাংশে ইরানি প্রেসিডেন্ট দেশের আপামর জনসাধারণের প্রতি অভ্যন্তরীণ একতা, সংহতি ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতা বজায় রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে এবং সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে ইরান বর্তমান সময়ের এই কঠিন ও অগ্নিপরীক্ষাও অত্যন্ত সফলভাবে এবং মর্যাদার সঙ্গে অতিক্রম করতে সক্ষম হবে।
তাঁর এই সুদৃঢ় বক্তব্য মূলত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই অকাট্য বার্তাই প্রদান করছে যে, নিজেদের ভূখণ্ড, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ইরান বিন্দুমাত্র আপস করতে রাজি নয় এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাষ্ট্রযন্ত্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।