একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল বিক্রির ওপর আরোপিত যাবতীয় পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে বলে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত চুক্তির আলোচনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে রোববার ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জনসমক্ষে এনেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনি হিসেবে পরিচিত এই ব্যস্ততম নৌপথটি বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি হতে পারে। সুতরাং, তেহরানের এই অনড় অবস্থান আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের একটি স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরুর বিষয়টি রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিশেষ বিবৃতির মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডে 'লেক লুসার্ন শীর্ষ সম্মেলন এবং উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রথম বৈঠক' শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করেছে।
আন্তর্জাতিক এই শান্তি প্রক্রিয়ার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই বৈঠকে সরাসরি বিবাদমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্র হিসেবে কাতার এবং পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশ কাতার গভীরভাবে আশাবাদী যে, সুইজারল্যান্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ বৈঠক বিবদমান পক্ষগুলোকে একটি ব্যাপক, সর্বজনীন ও দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
এই চূড়ান্ত চুক্তিতে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকের সব গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, চলমান এই বহুমাত্রিক কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি তাদের খবরে জানিয়েছে, লেবাননে একটি বিস্তৃত ও টেকসই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং বিদেশের মাটিতে দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক সম্পদ পুনরায় সচল করার সুনির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করতে ইরান, কাতার এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডের নির্ধারিত স্থানে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছে।
সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন লেক লুসার্নের এই শীর্ষ আলোচনার দিকেই তীক্ষ্ণ নজর রাখছে, কারণ এই আলোচনার সফলতার ওপরই মূলত নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ শান্তি, ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ।