তিনি জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে গত কয়েক ঘণ্টার নিবিড় আলোচনায় অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া গেছে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
মূলত লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা, আঞ্চলিক পর্যায়ে উত্তেজনা প্রশমন এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই বহুমুখী কূটনৈতিক তৎপরতা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
লেক লুসার্ন সম্মেলনে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই ইতিবাচক মন্তব্য করেন।
তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যে, বর্তমান আলোচনা আর কেবল তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নির্ধারণের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই শান্তি উদ্যোগে আরও বড় ধরনের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বাস্তব সুফল হিসেবে লেবাননের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বজায় রাখাকে তিনি বর্তমান শান্তি প্রক্রিয়ার একটি বড় পরীক্ষামূলক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এ ধরনের যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা সবসময়ই অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া স্বীকার করলেও, তিনি মনে করেন সাম্প্রতিক এই অগ্রগতি দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে একটি স্থায়ী শান্তির মজবুত ভিত্তি রচনা করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে জেডি ভ্যান্স জানান, ট্রাম্প প্রশাসন কূটনীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করা এবং ইরানের সাধারণ মানুষের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
তবে এই কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনি স্পষ্ট শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, তেহরানকে অবশ্যই এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যাবতীয় নীতি পরিহার করতে হবে এবং পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্য থেকে স্থায়ীভাবে সরে আসতে হবে।
অতীতে ইরানকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করলেও, বর্তমানের এই আলোচনাকে তিনি পারস্পরিক অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙে সম্পর্ক পুনর্গঠনের এক অত্যন্ত বিরল সুযোগ বলে মনে করছেন।
এই ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নেতৃবৃন্দের গঠনমূলক মধ্যস্থতার ভূয়সী প্রশংসা করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। বিশেষ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক তৎপরতার কথা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, গত কয়েক মাসে এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে তিনি ফিল্ড মার্শাল মুনিরের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আলোচনা করেছেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বের প্রশংসা করে চলমান এই আলোচনা থেকে বিশ্ব শান্তির জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ ফলাফল বেরিয়ে আসবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।