রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার প্রথম ধারা বাস্তবায়নে ব্যর্থ, ইরান

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬, ০৭:২২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার প্রথম ধারা বাস্তবায়নে ব্যর্থ, ইরান
ছবি : File Photo

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারাটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে ওয়াশিংটন চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তুলেছে তেহরান।

 

সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক শহরে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ঠিক আগে, রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

 

তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, চুক্তির প্রথম ধারাটি বাস্তবায়িত না হওয়ার এই হতাশাজনক ব্যর্থতাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নতুন দফার এই কূটনৈতিক আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু হতে যাচ্ছে।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র চুক্তির শর্তগুলো ব্যাখ্যা করে বলেন, একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা শুরুর জন্য পাঁচটি সুনির্দিষ্ট পূর্বশর্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।

 

এর মধ্যে অন্যতম প্রধান ও প্রথম ধারাটি ছিল লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে অবিলম্বে সব ধরনের যুদ্ধ এবং সামরিক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা। কিন্তু ইসমাইল বাঘাই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো এই ধারাটি এখনো অবাস্তবায়িতই রয়ে গেছে।

 

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এটি বাস্তবায়ন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, অথবা তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চায়নি। এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল এখনো অবিরতভাবে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে।

 

আর এ কারণেই চলমান এই শান্তি প্রক্রিয়ায় রবিবারের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এই চুক্তি লঙ্ঘনের বিষয়টি। কূটনৈতিক এই আলোচনার বিষয়ে ইরানের অবস্থান ও আন্তরিকতা তুলে ধরে বাঘাই আরও উল্লেখ করেন যে, এই বৈঠকটি মূলত অন্য পক্ষের দেওয়া প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের বিষয়ে তেহরানের গভীর গুরুত্ব ও আন্তরিকতারই এক সুস্পষ্ট প্রমাণ।

 

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইরান কখনোই এমন কোনো নথিতে স্বাক্ষর করার কথা সরল বিশ্বাসে চিন্তা করেনি যা সই করার পরই অপর পক্ষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা বাস্তবায়ন করবে বলে ধরে নেওয়া যায়।

 

আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে অতীতের বিভিন্ন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তেহরান মোটেই ভুলে যায়নি বলে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে গত বুধবার ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভার্চুয়াল মাধ্যমে ১৪ দফা সংবলিত একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সমঝোতা স্মারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন।

 

এই ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে মূলত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সামরিক আগ্রাসনের স্থায়ী অবসানের একটি মসৃণ পথ তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

 

চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সব পক্ষের মধ্যে একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে আরও নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে।

 

বহুল প্রতীক্ষিত এই চুক্তিতে বেশ কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হলো সকল ফ্রন্টে একটি স্থায়ী ও টেকসই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা, ধাপে ধাপে তেহরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের নৌ অবরোধ সম্পূর্ণরূপে তুলে নেওয়া এবং বিশ্ববাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা।

 

তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব শান্তি ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হলেও এর প্রাথমিক শর্ত বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান দৃশ্যমান ব্যর্থতা পুরো কূটনৈতিক শান্তি প্রক্রিয়াটিকে এক নতুন ও জটিল চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

 

- প্রেস টিভি