আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তাঁর এই নীরবতা নানা ধরনের জল্পনাকল্পনার জন্ম দিয়েছে। রোববার সুইজারল্যান্ডের লুসার্ন শহরের অদূরে অবস্থিত মনোরম বুর্গেনস্টক রিসোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। জানা গেছে, বৈঠকের প্রারম্ভিক পর্বে তিনি গণমাধ্যমের সামনে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বা লিখিত বক্তব্য প্রদান করা থেকে বিরত থাকেন।
তবে এই গুরুত্বপূর্ণ শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার জন্য তিনি পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। ঠিক সেই মুহূর্তেই উপস্থিত এক সাংবাদিক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রতি তাঁর কোনো বার্তা আছে কি না জানতে চাইলে, জেডি ভ্যান্স সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করেন এবং কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখানো থেকে বিরত থাকেন।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই বৈঠকের পর আজ দিনের পরবর্তী অংশে ইরানি শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই নীরবতার পেছনে গভীর ভূরাজনৈতিক কারণ নিহিত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত সামরিক অভিযানের কারণে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন অর্থাৎ ট্রাম্প প্রশাসন ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের সুস্পষ্ট অভিমত হলো, ইসরায়েল এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে ক্রমশ বাড়তে থাকা এই সামরিক সংঘাত তেহরানের সঙ্গে চলমান অত্যন্ত নাজুক যুদ্ধবিরতি ও স্পর্শকাতর কূটনৈতিক আলোচনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এর আগে, গতকাল প্রখ্যাত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
তিনি অত্যন্ত খোলামেলাভাবে বলেন, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করার যে চূড়ান্ত লক্ষ্য, সেই অর্জনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল একমত হলেও, ঠিক কীভাবে সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হবে, সে বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্য থাকতে পারে।
একই সাক্ষাৎকারে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই হলেন বিশ্বের একমাত্র শীর্ষ রাষ্ট্রনেতা, যিনি ইসরায়েলের প্রতি এখনো সহানুভূতিশীল অবস্থান বজায় রেখেছেন।
ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের প্রতি একটি প্রচ্ছন্ন সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে জেডি ভ্যান্স আরও বলেন, তিনি যদি ব্যক্তিগতভাবে ইসরায়েল সরকারের মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য হতেন, তবে বিশ্বের একমাত্র এবং সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে-এমন যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এই ইঙ্গিতই দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বহুমুখী সংকট মোকাবিলার কৌশল এবং পদ্ধতি নিয়ে বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে বেশ কিছু মৌলিক বিষয়ে মতভেদ ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে।