মিশরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ‘আর-ফোর’ মন্ত্রী পর্যায়ের এক বিশেষ বৈঠকে দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সমবেত হয়ে এই ফলপ্রসূ আলোচনায় অংশ নেন। রোববার, ২১ জুন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিস্তারিত প্রতিবেদনে কূটনৈতিক এই তৎপরতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই বৈঠককে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক ঐক্যের এক জোরালো বার্তা হিসেবে বিবেচনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদ্রাবি এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে একটি সীমিত পরিসরের বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে মূলত আঞ্চলিক সার্বিক উন্নয়ন, বহুল আলোচিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের পুঙ্খানুপুঙ্খ বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা করা হয়েছে।
মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেন, বৈঠকে অংশগ্রহণকারী চারটি দেশই তাদের অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলো সম্মিলিতভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্ন সংলাপ, কার্যকর কূটনীতি এবং আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানে নিজেদের কর্তৃত্ব বা আঞ্চলিক মালিকানার প্রতি তাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
মূলত আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশর আগামী দিনগুলোতে নিজেদের মধ্যে আরও গভীরভাবে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক অব্যাহত রাখবে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ডের দিকে। সেখানে দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক বৈরিতা নিরসনে কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে।
রোববার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে, তারা চলমান এই ঐতিহাসিক বৈঠকের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ, সর্বজনীন ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে গভীরভাবে আশাবাদী।
পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের সব শর্ত ও সংবেদনশীল বিষয়াবলি এই চূড়ান্ত চুক্তিতে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
মূল শান্তি বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিসের সঙ্গে এক বিশেষ ও সৌজন্যমূলক বৈঠকে মিলিত হন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের একটি স্থিরচিত্রও প্রকাশ করেন। বৈঠক শেষে সুইস পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাসিস অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, বর্তমান বিশ্বের নানা জটিল ও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্যেও সুইজারল্যান্ড ও ইরানের মধ্যে গভীর বিশ্বাসের এক মজবুত সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, পারস্পরিক আস্থার এই চমৎকার সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কার্যকর কূটনীতির প্রসারে অসামান্য ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করবে।