মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই সফরটিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই উচ্চপর্যায়ের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইসলামাবাদের এই সিদ্ধান্ত প্রতিবেশী দুই দেশের কূটনৈতিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়কালে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আগামী তিন থেকে পাঁচ জুলাই পর্যন্ত একটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় সফরে থাকবেন।
এই সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে তিনি প্রথমে ইরান এবং পরবর্তীতে তুরস্ক সফর করবেন। মূলত ইরানের দীর্ঘকালীন ও প্রভাবশালী সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তার নামাজে জানাজায় সশরীরে অংশগ্রহণ করাই এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য।
পাকিস্তানের সরকারপ্রধানের এই সফরকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ইসলামাবাদের কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। গত ছাব্বিশে ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রথম দিনেই এক আকস্মিক ও শক্তিশালী বিমান হামলায় ছিয়াশি বছর বয়সী এই শীর্ষ ইরানি নেতা নিহত হন।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দীর্ঘ ছত্রিশ বছর ধরে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তিনি ওয়াশিংটনের বৈরি নীতির একজন কট্টর ও আপসহীন সমালোচক হিসেবে বিশ্বব্যাপী সমধিক পরিচিত ছিলেন।
তার এই আকস্মিক ও নাটকীয় প্রস্থান কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকেই বদলে দেয়নি, বরং মুসলিম বিশ্বের শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের মাঝেও এক গভীর শোক ও উদ্বেগের ছায়া ফেলেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রয়াত এই শীর্ষ নেতার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা অত্যন্ত বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী চার জুলাই রাজধানী তেহরানে তার প্রথম জানাজা এবং রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রা শুরু হবে।
এরপর দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর প্রদক্ষিণ করে আগামী নয় জুলাই ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পবিত্র শহর মাশহাদে তার নিজের জন্মস্থানে চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন হবে। এই দীর্ঘ ও ঐতিহাসিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে পাকিস্তান ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন বন্ধুভাবাপন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপদস্থ কূটনীতিকরা বর্তমানে তেহরানে সমবেত হচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের এই উপস্থিতি সংকটের এই মুহূর্তে ইরানের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন ও জনগণের প্রতি ইসলামাবাদের অটুট সহমর্মিতা ও কৌশলগত সংহতির এক প্রকাশ্য বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।