শুক্রবার, জুলাই ১৭, ২০২৬
২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেহরানের জুমার খুতবায় প্রতিশোধ ও মার্কিন-ইসরায়েলিদের শাস্তির দাবি ইমামের

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম

তেহরানের জুমার খুতবায় প্রতিশোধ ও মার্কিন-ইসরায়েলিদের শাস্তির দাবি ইমামের
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের রাজধানী তেহরানের সেন্ট্রাল মস্ক বা কেন্দ্রীয় মসজিদে আয়োজিত জুমার নামাজের খুতবায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

 

আজকের জুমার নামাজের বিশেষ খুতবায় ইমাম মোহাম্মদ জাওয়াদ হাজি আলী আকবারি ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে এই আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার প্রাথমিক ও প্রধান পদক্ষেপ হতে হবে এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আন্তর্জাতিকভাবে শাস্তির মুখোমুখি করা।

 

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে তেহরানের পক্ষ থেকে আসা এই কড়া বার্তা বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবারের জুমার খুতবায় ইমাম হাজি আলী আকবারি ইরানের আপামর জনসাধারণের ক্ষোভ ও আবেগের প্রতিধ্বনি করে পরবর্তী সামরিক ও কৌশলগত পদক্ষেপের একটি রূপরেখা তুলে ধরেন।

 

তিনি বলেন, এই অন্যায়ের প্রতিশোধ গ্রহণের প্রক্রিয়াটি কেবল একটি বা দুটি পদক্ষেপের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার পর পরবর্তী প্রধান লক্ষ্য হবে সমগ্র পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক উপস্থিতির সম্পূর্ণ অবসান ঘটানো।

 

একই সঙ্গে তিনি বিশ্ব মানচিত্র থেকে জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা বা ইসরায়েলের অস্তিত্ব মুছে ফেলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমেরিকার একক আধিপত্যবাদী অবস্থানের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটানোর জন্য মুসলিম উম্মাহ ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

 

খুতবায় ইমাম আকবারি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার যে দাবি ইরানি জনগণের মধ্যে উঠেছে, তা কেবল সাময়িক কোনো ক্ষোভ বা আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়। বরং এই দাবি সম্পূর্ণভাবে যুক্তি, ইসলামি শরিয়াহ এবং আন্তর্জাতিক অধিকারের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি ন্যায়সংগত অধিকার।

 

ইরান তার সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় মর্যাদার ওপর আঘাতের বিরুদ্ধে যেকোনো স্তরে আইনি ও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লবের বর্তমান নেতৃত্ব এবং সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকেরা দেশের জনগণের এই সামগ্রিক ও যৌক্তিক দাবিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।

 

ফলস্বরূপ, এই প্রতিশোধের দাবি এখন কেবল ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এটি সমগ্র বিশ্বের ইসলামি ভাবাদর্শে বিশ্বাসী জাতির অন্যতম প্রধান ও অবিচ্ছেদ্য দাবিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চাবাহার বন্দরে সাম্প্রতিক মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং তার জবাবে কুয়েতসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ইরানের পাল্টা হামলার ঘটনার পরপরই তেহরানের জুমার খুতবায় এমন বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

 

এই খুতবার মাধ্যমে ইরান মূলত পশ্চিমা বিশ্ব ও তাদের মিত্রদের এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে, তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেদের নীতিতে অটল থাকবে। সামগ্রিকভাবে, তেহরানের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থায়।

 

- আল জাজিারা