বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় অনুযায়ী, ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বার্তায় জানান যে, ওই নারী বর্তমানে ইরানের সীমানার বাইরে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ শরীরে অবস্থান করছেন।
একই সঙ্গে এই মানবিক ও ইতিবাচক সিদ্ধান্তের জন্য মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে প্রাথমিক ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিরাপত্তার স্বার্থে ওই নারীর নাম কিংবা পরিচয় প্রকাশ করেননি।
কোন সুনির্দিষ্ট কারণে তাকে এতদিন আটক করে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়েও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বিবৃতিতে শুধু এটুকু উল্লেখ করেন যে, ওই মার্কিন নাগরিককে সম্পূর্ণ অন্যায় ও অনভিপ্রেতভাবে তেহরানে আটকে রাখা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মুক্তির ঘটনাটি এমন একটি সময়ে ঘটল যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। গত ৭ জুলাই থেকে ইরানে মার্কিন বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং বুধবারও এই অভিযানের পঞ্চম দিনের মতো আক্রমণ চালানো হয়।
এমন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন নাগরিককে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওই বার্তার কিছু সময় পরেই মুক্ত হওয়া নারীর আইনি পরামর্শদাতা জ্যারেড গেনসার একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেন।
সেই বিবৃতিতে তিনি তার মক্কেলের নাম ডেনা কারারি বলে উল্লেখ করেন। জ্যারেড গেনসার জানান, ডেনা কারারি মূলত একজন ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তেহরান প্রশাসন তার বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন সহযোগিতা এবং গুপ্তচরবৃত্তির মতো গুরুতর কিন্তু সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক অভিযোগ এনে তাকে আটক করেছিল।
দীর্ঘদিন বন্দীদশায় থাকার পর অবশেষে আইনি ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় তিনি মুক্ত হতে পেরেছেন। মুক্ত মার্কিন নাগরিকের পরিচয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তার আইনজীবী আরও জানান যে, ডেনা কারারি মূলত একটি অলাভজনক ও সেবামূলক সংস্থা পরিচালনা করতেন, যার নাম ‘চিলড্রেন অব মেহর ফাউন্ডেশন’।
এই মানবিক সংস্থাটি বিভিন্ন ব্যক্তিগত অনুদানের অর্থ সংগ্রহ করে ইরানের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র শিশুদের কল্যাণে এবং তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে কাজ করত। আইনজীবীর দাবি, এই সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কারণেই তিনি ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারিতে পড়েন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন।
জ্যারেড গেনসার নিশ্চিত করেছেন যে, ডেনা কারারি বর্তমানে ইরানের ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে একটি নিরাপদ রাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং খুব শীঘ্রই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিজের পরিবারের কাছে ফিরে আসবেন। যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও এই বন্দি মুক্তি দুই দেশের মধ্যকার পর্দার অন্তরালের কোনো সমঝোতার অংশ কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নানামুখী আলোচনা শুরু হয়েছে।