শনিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬
২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে আকাশ ও সমুদ্রে ড্রোন হামলা চালাতে নতুন টাস্কফোর্স গঠন যুক্তরাষ্ট্রের

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে আকাশ ও সমুদ্রে ড্রোন হামলা চালাতে নতুন টাস্কফোর্স গঠন যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ওই অঞ্চলে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে এক অভিনব ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

 

আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আঞ্চলিক যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় আকাশ ও সমুদ্রপথে আক্রমণাত্মক ড্রোন বা চালকবিহীন যান পরিচালনার লক্ষ্যে নতুন একটি বহুজাতিক সামরিক টাস্কফোর্স গঠন করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

 

গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন সামরিক ইউনিট গঠনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছে। সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই বিশেষ বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও জলসীমায় এক নতুন মাত্রার সামরিক সমীকরণ তৈরি করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

 

আধুনিক যুদ্ধকৌশলে ড্রোনের ব্যবহার যখন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে এই ধরনের একটি বিশেষায়িত আক্রমণকারী ইউনিট গঠনের ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে, নতুন গঠিত এই বিশেষায়িত সামরিক ইউনিটের নামকরণ করা হয়েছে ‘টাস্কফোর্স ফ্যালকন স্ট্রাইক’।

 

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যে সামরিক বলয় রয়েছে, তার শক্তি বৃদ্ধি করতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ওই অঞ্চলে তাদের মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর সুদক্ষ সামরিক সদস্যদের সমন্বয়ে এই বহুজাতিক টাস্কফোর্সটি গঠন করা হয়েছে।

 

বিবৃতিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, এই বিশেষ ইউনিটটি মূলত সমুদ্রপৃষ্ঠ, সমুদ্রের ওপরের বিস্তীর্ণ আকাশপথ এবং সমুদ্রের তলদেশে একমুখী আক্রমণকারী ড্রোনসহ বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক মনুষ্যবিহীন সামরিক ব্যবস্থা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিচালনা করবে।

 

এর ফলে সংবেদনশীল ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক জোটের সার্বক্ষণিক নজরদারি, নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং তাৎক্ষণিক আক্রমণ সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। মূলত প্রতিপক্ষের যেকোনো ধরনের আকস্মিক সামরিক তৎপরতা দ্রুততার সঙ্গে নস্যাৎ করতেই এই আধুনিক ড্রোন বাহিনীকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

 

মার্কিন সেন্টকমের শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তারা মনে করেন, আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোকে এই অত্যাধুনিক টাস্কফোর্সে সরাসরি যুক্ত করার ফলে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহারের সম্মিলিত সামরিক সক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত হবে।

 

একই সঙ্গে এই যৌথ উদ্যোগটি একটি সুসমন্বিত, বহুজাতিক এবং বহুমুখী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আধুনিক রণকৌশলে চালকবিহীন যানের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের এই যুগে নতুন এই টাস্কফোর্স মিত্র দেশগুলোর সামরিক ঐক্যের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে বলে সামরিক মহলে দাবি করা হচ্ছে।

 

সেন্টকমের অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার নতুন এই আধুনিক বাহিনী গঠনের প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, আঞ্চলিক মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত অভূতপূর্ব উদ্ভাবনী সামরিক সক্ষমতার মজবুত ভিত্তির ওপর নির্ভর করেই মূলত এই নতুন ‘টাস্কফোর্স ফ্যালকন স্ট্রাইক’ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।

 

অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিজস্ব উদ্যোগে গড়ে তোলা ‘টাস্কফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক’-এর কার্যকরী সাফল্যও নতুন এই আধুনিক ইউনিট গঠনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

 

তার মতে, নতুন এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতাগুলোকে সুচারুভাবে সমন্বয় করে মিত্রদের সঙ্গে একযোগে মোতায়েন করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এবং এর আঞ্চলিক মিত্ররা সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে আগের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী ও সুদৃঢ় অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

 

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মতো অস্থিতিশীল অঞ্চলে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে অত্যন্ত কার্যকরভাবে মোকাবেলায় এই ধরনের সমন্বিত ড্রোন হামলা একটি যুগান্তকারী রণকৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ও পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের সামরিক আধিপত্য ও প্রভাব অক্ষুণ্ন রাখতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্বপ্রথম বিশেষায়িত একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন ইউনিট হিসেবে ‘টাস্কফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক’ গঠন করা হয়েছিল।

 

আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ওই প্রাথমিক ইউনিটটি গঠনের পর থেকে গত প্রায় নয় মাসে প্রযুক্তিগত, কৌশলগত এবং আভিযানিক ক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

 

পূর্ববর্তী সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতেই এবার আরও বৃহৎ পরিসরে, বর্ধিত লোকবল এবং উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে নতুন এই ‘ফ্যালকন স্ট্রাইক’ চালু করল মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড।

 

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার যুক্তিতে এই ধরনের সর্বাধুনিক আক্রমণাত্মক ড্রোন বাহিনীর উপস্থিতি আগামী দিনগুলোতে ওই অঞ্চলে সামরিক মেরুকরণকে আরও নতুন রূপ দিতে পারে।