আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত এই বার্তায় তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে দেশের আপামর জনসাধারণের প্রতি রাজপথে তাদের এই গৌরবময় উপস্থিতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জোর দিয়ে বলেছেন যে, রাজপথে জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত, সচেতন ও মহিমান্বিত উপস্থিতির ফলে যে অপরিসীম গৌরব ও মর্যাদার সৃষ্টি হয়েছে, তা কেবল দেশের মানুষের অভ্যন্তরীণ ইস্পাতকঠিন ঐক্য এবং পবিত্র সংহতি বজায় রাখার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদে অটুট রাখা সম্ভব।
বর্তমানের অত্যন্ত সংবেদনশীল বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং জনগণের এই অটুট ঐক্যের বার্তাকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করছেন।
দেশবাসীর প্রতি দেওয়া এই বিশেষ বার্তায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুসাভি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনীর প্রতি জনগণের নিঃশর্ত ও সর্বাত্মক সমর্থনের অপরিহার্যতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের এই বর্তমান সংবেদনশীল ও যুগান্তকারী পরিস্থিতিতে জনগণের নিজস্ব সরকার এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত ইসলামি যোদ্ধাদের নিরলস ও আত্মত্যাগী প্রচেষ্টাকে পূর্ণাঙ্গ সমর্থন জোগাতে হবে।
একই সঙ্গে তিনি দেশের সর্বোচ্চ নেতার অত্যন্ত দূরদর্শী, প্রজ্ঞাপূর্ণ ও সময়োপযোগী দিকনির্দেশনাকে গোটা জাতির চূড়ান্ত আদর্শ এবং চলার পথের প্রধান পাথেয় হিসেবে মেনে চলার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
সামরিক বাহিনীর সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সাধারণ জনগণের এই নিবিড় ও অবিচ্ছেদ্য মেলবন্ধন দেশের যেকোনো অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক সংকট মোকাবিলায় সবচেয়ে শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি তাঁর বার্তায় সুস্পষ্ট ইঙ্গিত প্রদান করেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুসাভি তাঁর এই সুদীর্ঘ বার্তায় ইরানি জনগণের অবিচল দেশপ্রেম, ত্যাগ এবং অদম্য প্রতিরোধের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
দেশবাসীকে সরাসরি উদ্দেশ করে লেখা এই বার্তায় তিনি উল্লেখ করেছেন, মাতৃভূমি ইরানের নিজস্ব স্বকীয়তা, জাতীয় স্বাধীনতা এবং পবিত্র অস্তিত্ব রক্ষার মহান স্বার্থে রাতের আঁধারে রাজপথে জনগণের এই নিরবচ্ছিন্ন ও স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণ গোটা বিশ্ববাসীকে রীতিমতো হতবাক ও বিস্মিত করেছে।
জনগণের এই অভূতপূর্ব আন্দোলনকে তিনি কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক বা সামাজিক উপস্থিতির গণ্ডিতে আবদ্ধ রাখতে রাজি নন; বরং তাঁর মতে, এটি ইরানি জাতির প্রখর জাতীয় বিচক্ষণতা, উচ্চতর ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ এবং তাদের হাজার বছরের সমৃদ্ধশালী জাতীয় সংস্কৃতি ও প্রাচীন সভ্যতার এক অনন্য ও অসাধারণ বহিঃপ্রকাশ।
জনগণের এই অভাবনীয় ঐক্যবদ্ধ রূপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে ইরানি জনগণের আত্মমর্যাদা, সম্মান এবং অস্তিত্বের ঘোষণাকে এক সম্পূর্ণ নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে জনগণের এই গণজাগরণের সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কেও আইআরজিসির এই শীর্ষ ও অত্যন্ত প্রভাবশালী কর্মকর্তা বিশদভাবে আলোকপাত করেছেন।
তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, ইরানি জনগণের এই ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধ এবং ঐক্যের অভাবনীয় শক্তির সামনে দেশের চিরচেনা শত্রুরা আজ পুরোপুরি বিস্মিত এবং হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি এমন এক অনিবার্য পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে, প্রবল বিরোধী ও আধিপত্যকামী শক্তিগুলোও আজ বাধ্য হয়ে ইরানি জাতির এই অপরিসীম মহত্ত্ব, দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের শক্তিকে মনে মনে স্বীকার করে নিচ্ছে।
অন্যদিকে, বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা স্বাধীনতাকামী আপামর মানুষ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অকৃত্রিম মিত্ররা এই মর্যাদাপূর্ণ ও শক্তিশালী অবস্থানে অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। বিশ্বব্যাপী চলমান নিপীড়ন, অন্যায় এবং অন্যায্য আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের যে চূড়ান্ত বিজয় অবশ্যম্ভাবী, সেই চিরন্তন ও শাশ্বত বিশ্বাসের ব্যাপারে তারা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় আশাবাদী ও উদ্দীপ্ত হয়ে উঠেছে।
দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত সামরিক বাহিনীর জন্য রাজপথে জনগণের এই অব্যাহত ও সচেতন উপস্থিতি ঠিক কতটা অনুপ্রেরণাদায়ক ও শক্তিবর্ধক, তারও এক অত্যন্ত আবেগঘন ও সুস্পষ্ট বর্ণনা উঠে এসেছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুসাভির এই বার্তায়।
তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দেশের সাধারণ নাগরিকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ ও নিঃশর্ত সমর্থন মূলত ইরানের সুরক্ষায় নিয়োজিত সকল প্রতিরক্ষা ফ্রন্টের ইসলামি যোদ্ধাদের জন্য এক বিশাল নির্ভরতার প্রতীক এবং অভাবনীয় মানসিক শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করছে।
বিশেষ করে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনীর যে অকুতোভয় ও নিবেদিতপ্রাণ সদস্যরা দেশমাতৃকার সুরক্ষায় যেকোনো মুহূর্তে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছেন, তাদের জন্য এই বিশাল জনসমর্থন এক অটুট দৃঢ়তা ও অপরিসীম সহনশীলতার বার্তা বয়ে এনেছে।
দেশের এই অকুতোভয় যোদ্ধারা অত্যন্ত গর্বিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পবিত্র অস্তিত্ব রক্ষা করার পাশাপাশি তাঁদের মহান শহীদ ইমামের পবিত্র রক্তের যথাযথ প্রতিশোধ গ্রহণের যে সুমহান ও পবিত্র দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন, রাজপথের এই নিরঙ্কুশ ও স্বতঃস্ফূর্ত জনসমর্থন সেই পরম লক্ষ্য অর্জনের পথকে আগামী দিনে আরও অনেক বেশি সুগম ও ত্বরান্বিত করবে বলে তিনি তাঁর ঐকান্তিক বিশ্বাস ও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।