রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬
২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগ্রাসনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান আরাগচির

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

আগ্রাসনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান আরাগচির
ছবি : Collected

রোববারের ঘটনা। ইরানের রাজধানী তেহরানে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের প্রতি এক জোরালো, সময়োপযোগী ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

 

'ইকোসাইড: দ্য সাইলেন্ট ওয়ার ক্রাইম' বা 'পরিবেশ ধ্বংস: এক নীরব যুদ্ধাপরাধ' শীর্ষক এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছেন যে, যুদ্ধের নামে যারা সুপরিকল্পিতভাবে প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংস করছে, সেই আগ্রাসনকারীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

 

পরিবেশ ধ্বংস বা 'ইকোসাইড'-কে তিনি সাধারণ যুদ্ধাপরাধের চেয়েও অনেক বড় মাত্রার এক ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কেবল মৌখিক বা কাগুজে উদ্বেগ প্রকাশের গতানুগতিক বৃত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, এখন বাস্তবমুখী ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক।

 

আধুনিক বিশ্বের যুদ্ধবিগ্রহে পরিবেশ কীভাবে নীরব শিকারে পরিণত হচ্ছে, তার এক ভয়ংকর চিত্র তিনি এই সম্মেলনে উপস্থিত আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সামনে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন।

 

সম্মেলনে দেওয়া নিজের অত্যন্ত সুচিন্তিত ও গভীর দার্শনিক তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণে আব্বাস আরাগচি বলেন, আমাদের চারপাশের এই প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র কোনোভাবেই কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্র, পরাশক্তি বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়; বরং এটি সমগ্র মানবজাতির এক অভিন্ন ও মহামূল্যবান উত্তরাধিকার।

 

এই মহামূল্যবান প্রকৃতিকে কোনোভাবেই ভূরাজনৈতিক শত্রুতা চরিতার্থ করার হাতিয়ার, সামরিক শক্তির মহড়া প্রদর্শনের ক্ষেত্র কিংবা অত্যন্ত স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামরিক হিসাব-নিকাশের নির্মম বলি হতে দেওয়া যায় না।

 

যুদ্ধের নির্মমতায় সাধারণ মানুষ ও স্থাপনার পাশাপাশি প্রকৃতিও যে কতটা নীরবে এবং গভীরভাবে রক্তক্ষরণের শিকার হয়, সেই দিকটিতে আলোকপাত করে তিনি বিশ্ববিবেকের কাছে এক নৈতিক প্রশ্ন রাখেন।

 

তার মতে, আধুনিক পৃথিবীতে সামরিক সংঘাতে জয়লাভের মিথ্যা অহংকারে মত্ত হয়ে শত্রুপক্ষের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর যে নির্দয় ও বেপরোয়া আঘাত হানা হচ্ছে, তা প্রকারান্তরে সমগ্র মানবসভ্যতার অস্তিত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বেঁচে থাকার অধিকারকেই মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

 

আন্তর্জাতিক আইনের পরিভাষায় 'ইকোসাইড' বা পরিবেশ ধ্বংসের ধারণাকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত চমকপ্রদ ও বাস্তবসম্মত এক তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কাঠামোগত এবং ভয়াবহতার দিক থেকে 'ইকোসাইড' শব্দটি 'জেনোসাইড' বা গণহত্যার সম্পূর্ণ সমতুল্য একটি ধারণা।

 

একটি নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করার সুপরিকল্পিত মানসিকতার নাম যেমন গণহত্যা, ঠিক তেমনি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সামগ্রিক প্রাকৃতিক পরিবেশ, বনভূমি ও বাস্তুতন্ত্রকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার নাম হলো ইকোসাইড।

 

এটি পরিবেশের বিরুদ্ধে সংঘটিত কোনো সাধারণ যুদ্ধাপরাধের ধারণাকেও বহুগুণে ছাড়িয়ে যায়। এই জঘন্য অপরাধের মাত্রা, নিষ্ঠুরতা ও গভীরতা বোঝাতে তিনি ফার্সি ভাষার একটি চমৎকার সমার্থক শব্দ ব্যবহারের প্রস্তাব করেন, যার আক্ষরিক অর্থ হলো 'প্রকৃতি-হত্যা'।

 

তার এই অভিনব ব্যাখ্যা আন্তর্জাতিক মহলে পরিবেশ সংরক্ষণের আইনি গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধের কারণে প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের ওপর ঠিক কী ধরনের সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়ে, তার এক নিপুণ ও ভয়ংকর চিত্র ফুটে উঠেছে আরাগচির বক্তব্যে।

 

তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে বর্ণনা করেন যে, সামরিক সংঘাত, অনবরত বোমাবর্ষণ এবং ভারী অস্ত্রের ব্যবহারের ফলে সরাসরিভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের জীবনধারণের সবচেয়ে মৌলিক উপাদান-বিশুদ্ধ পানি, উর্বর মাটি এবং নির্মল বাতাস।

 

শত শত বছরের পুরোনো প্রাকৃতিক বনভূমি, খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান ভরসা কৃষিজমি, একটি দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি জ্বালানি সম্পদ, নিরীহ বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল এবং সর্বোপরি অমূল্য জীববৈচিত্র্য নিমিষেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

 

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো, যুদ্ধের দামামা থেমে যাওয়ার পর বা কোনো সামরিক সংঘাত কাগজে-কলমে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পরও, পরিবেশের ওপর এর এই বিষাক্ত ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব মাসের পর মাস নয়, বরং বছরের পর বছর বা ক্ষেত্রবিশেষে কয়েক দশক ধরে অব্যাহত থাকে।

 

যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোর মাটি ও ভূগর্ভস্থ পানিতে মিশে থাকা প্রাণঘাতী রাসায়নিক উপাদান প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের স্বাস্থ্য ও প্রাণপ্রকৃতির জন্য এক নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করে যায়।

 

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া পরিবেশগত ধ্বংসযজ্ঞের বেশ কিছু বাস্তব ও মর্মান্তিক উদাহরণও নিজের ভাষণে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে তুলে ধরেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি প্রথমেই ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান নজিরবিহীন পরিবেশগত বিপর্যয়ের কথা উল্লেখ করেন।

 

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি বা ইউএনইপি-এর সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ ও লোমহর্ষক রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বিশ্বনেতাদের জানান, গাজায় সামরিক আগ্রাসনের ফলে সেখানে যে মাত্রায় পরিবেশের কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, তা মানব ইতিহাসে সত্যই বিরল।

 

সেখানে ফিলিস্তিনিদের জীবন, জীবিকা ও হাজার বছরের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত শতাব্দীর পুরোনো ঐতিহ্যবাহী জলপাই বাগানগুলোকে অত্যন্ত নির্মম ও সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

 

নির্বিচার বোমা হামলা এবং রাসায়নিক অস্ত্রের অবাধ ব্যবহারের ফলে সেখানকার ভূগর্ভস্থ পানি এবং উর্বর কৃষিজমি এতটাই বিষাক্ত ও দূষিত হয়ে পড়েছে যে, আগামী বহু বছর সেখানে কৃষিকাজ বা মানুষের স্বাভাবিক ও সুস্থ বসবাস চরম হুমকির মুখে থাকবে।

 

এরপর তিনি প্রতিবেশী রাষ্ট্র লেবাননের বর্তমান করুণ পরিস্থিতির দিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। লেবাননে সামরিক আগ্রাসন ও মাত্রাতিরিক্ত গোলাবর্ষণের ফলে সৃষ্ট বিশাল ও ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ডে সেখানকার সবুজ বনভূমি কীভাবে চোখের পলকে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, তা অত্যন্ত বেদনার সাথে তুলে ধরেন তিনি।

 

এই আগ্রাসনের কারণে হাজার হাজার সাধারণ কৃষকের জীবিকার প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত কয়েক হাজার প্রাচীন জলপাই গাছ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। লেবাননের এই অকল্পনীয় পরিবেশগত ক্ষতি কেবল একটি নির্দিষ্ট দেশের অর্থনীতিকেই পঙ্গু করেনি, বরং ওই অঞ্চলের সামগ্রিক জলবায়ু ও প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর এক অপূরণীয় ও সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যার ক্ষতিপূরণ হয়তো আগামী কয়েক দশকেও কোনো দিনই সম্ভব নয়।

 

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজের দেশ ইরানের সাম্প্রতিক এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথাও অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে উপস্থাপন করেন আব্বাস আরাগচি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর যে বেপরোয়া, অন্যায্য ও ধ্বংসাত্মক সামরিক হামলা চালানো হয়েছিল, তার ফলে বাতাসে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত ও বিপজ্জনক রাসায়নিক যৌগ ছড়িয়ে পড়ে।

 

ইউএনইপি বা জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি পরবর্তীতে সরেজমিনে তদন্ত করে এই ঘটনার ভয়াবহতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। ওই হামলার পরপরই ইরানের রাজধানী তেহরানের বিস্তীর্ণ আকাশে যে ভয়ংকর 'কালো বৃষ্টি' বা ব্ল্যাক রেইন ঝরেছিল, তা সেখানকার লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক ও গভীর স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি করেছিল।

 

এটি প্রমাণ করে যে, সামরিক হামলা কেবল ইট-পাথরের স্থাপনা ধ্বংস করে না, বরং পুরো একটি আধুনিক শহরের পরিবেশকে কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে প্রাণঘাতী বিষাক্ত গ্যাসচেম্বারে পরিণত করতে পারে।

 

পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা এই অব্যাহত আগ্রাসন ও নীরব যুদ্ধাপরাধ রুখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা অক্ষ প্রস্তাব করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

প্রথমত, তিনি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি বা ধ্বংসযজ্ঞকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা এবং এর সাথে জড়িত দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট ও সর্বজনীন আইনি মানদণ্ড নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

দ্বিতীয়ত, সশস্ত্র সংঘাত বা যুদ্ধের কারণে পরিবেশের ঠিক কী পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে, তা অত্যন্ত নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে নথিবদ্ধ করার জন্য একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক মেকানিজম বা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি তৈরির জোর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

 

এই পদ্ধতিটি এমন হতে হবে, যেন তা যেকোনো পরাশক্তির রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠভাবে পরিবেশগত ক্ষতির সঠিক চিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পারে।

 

তৃতীয়ত, পরিবেশগত এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ প্রতিরোধ, ক্ষতিগ্রস্ত প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমকে পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের নির্মম শিকার হওয়া যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোকে সার্বিক আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিবিড় ও সমন্বিত সহযোগিতা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

 

আরাগচি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে 'ইকোসাইড' বা পরিবেশ ধ্বংসকে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও পৃথক আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার যে বৈশ্বিক দাবি চারদিকে জোরালোভাবে উঠেছে, ইরান রাষ্ট্র হিসেবে তাকে পূর্ণাঙ্গভাবে সমর্থন করে।

 

এই মহৎ ও যুগান্তকারী লক্ষ্যে ইরান নিজের সমস্ত বৈজ্ঞানিক, আইনি এবং কূটনৈতিক সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে ভাগ করে নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সামরিক আগ্রাসন ও হামলার কারণে পরিবেশের ওপর যে দীর্ঘমেয়াদি ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়ছে, সেদিকে গোটা বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য আসন্ন 'কপ৩১' জলবায়ু সম্মেলনকে একটি অত্যন্ত মোক্ষম ও যথোপযুক্ত বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজে লাগানোর উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

ভাষণের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন ভাষায় আগ্রাসনকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

তিনি গোটা বিশ্ববিবেকের কাছে এক সুনির্দিষ্ট ও জোরালো বার্তা দিয়ে বলেন, "আমরা কোনোভাবেই আগ্রাসনকারীদের তাদের এই জঘন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায়ভার থেকে পার পেয়ে যাওয়ার সামান্যতম সুযোগও দিতে পারি না।"

 

তার এই বক্তব্য কেবল একটি রাজনৈতিক হুংকার নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য, সবুজ ও নিরাপদ পৃথিবী রেখে যাওয়ার এক নিরলস প্রতিজ্ঞার প্রতিধ্বনি। মানবতা ও প্রকৃতির অস্তিত্ব রক্ষার এই অসম লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন কেবল নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন না করে, পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে আইনি ও নৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার সময় এসেছে। পরিবেশ রক্ষায় যুদ্ধাপরাধের এই নতুন ও ভয়াবহ মাত্রাকে এখনই রুখতে না পারলে, অদূর ভবিষ্যতে সমগ্র মানবসভ্যতাকে এর জন্য এক চরম ও অপূরণীয় মূল্য চোকাতে হবে।

 

- মেহের নিউস এজেন্সি