সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধবিরতির নামে চলছে বিস্ফোরণ ও ড্রোনের শব্দ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর, ২০২৫, ০৮:৪০ এএম

যুদ্ধবিরতির নামে চলছে বিস্ফোরণ ও ড্রোনের শব্দ
ছবি: Al Jazeera

গাজা শহরের প্রতিটি কোণে এখন এক ধরনের দ্বিধা এবং উদ্বেগ স্পষ্ট। আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি জারি থাকলেও আকাশে ড্রোনের শব্দ, গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের আওয়াজ সেখানকার মানুষের মনে নিরন্তর ভয় ও আঘাতের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে, যা এই স্থিতাবস্থাকে অত্যন্ত ভঙ্গুর করে তুলেছে।

 

গাজা শহর থেকে সংবাদ: সংঘাতপূর্ণ গাজায় এখন এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সর্বত্রই এক গভীর দ্বিধা ও অনিশ্চয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফিলিস্তিনিরা যেন আক্ষরিক অর্থেই "নিঃশ্বাস ধরে রেখেছেন," কারণ কাগজে-কলমে একটি যুদ্ধবিরতি (Ceasefire) কার্যকর থাকলেও, এই অঞ্চলের আকাশ এখনও ড্রোনের তীক্ষ্ণ শব্দ, অপ্রত্যাশিত গোলাগুলি এবং বিস্ফোরণের আওয়াজে ভারি।

 

এসব কিছুই সেখানকার মানুষের মনে নিরন্তর এই কঠিন সত্যের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, যে কোনো মুহূর্তে এই ভঙ্গুর স্থিতাবস্থা ভেঙে যেতে পারে। তাদের দৈনন্দিন জীবনে এই যুদ্ধবিরতির অস্তিত্ব শুধুমাত্র একটি অস্থায়ী স্বস্তি মাত্র।

 

গাজার সাধারণ মানুষজন এই যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তারা প্রতিনিয়ত আলোচনা করছেন যে, এই স্থিতাবস্থা কি আসলেই তাদের মনে জমে থাকা ভয় এবং মানসিক আঘাতের (Trauma) মাত্রা কমাতে সক্ষম হবে?

 

দীর্ঘদিন ধরে তারা যে ধরনের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করছেন, তার ফলে তাদের মনে এক গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ড্রোনের উপস্থিতি এবং সামরিক তত্পরতার সামান্যতম ইঙ্গিতও তাদের সেই পুরোনো আতঙ্ককে ফিরিয়ে আনছে। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, শুধুমাত্র সামরিক পদক্ষেপ থামানোই যথেষ্ট নয়; গাজার মানুষের মানসিক ও বাস্তবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

 

আন্তর্জাতিক সমাজ এই যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে, কিন্তু মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন গল্প বলছে। গাজার মানুষজন জানেন, যেকোনো মুহূর্তে তাদের উপর আবার চরম বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

 

- Al Jazeera News