রবিবার (আজ) কিউএনএ-এর প্রতিবেদনে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গত সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় মোট ১৫,৬০০ ট্রাক ত্রাণসামগ্রী প্রবেশের কথা ছিল। কিন্তু এর বিপরীতে, এই দীর্ঘ সময়ে বাস্তবে প্রবেশ করেছে মাত্র ৪,৪৫৩টি ট্রাক, যা মোট প্রতিশ্রুতির এক-তৃতীয়াংশের চেয়েও কম।
আল-থাওয়াবতা তথ্যের গরমিল তুলে ধরে বলেন, মানবিক প্রোটোকল অনুযায়ী প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক ত্রাণ প্রবেশের শর্ত থাকলেও, বাস্তবে দৈনিক গড় বিতরণের হার মাত্র ১৭১ ট্রাকে এসে দাঁড়িয়েছে। এই নগণ্য পরিমাণ ত্রাণ দিয়ে উপত্যকার ২৩ লক্ষ মানুষের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
গাজার মিডিয়া অফিসের পরিচালক এই পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলি বিধিনিষেধকে সরাসরি দায়ী করেছেন। ইসমাইল আল-থাওয়াবতা অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ৩৫০টিরও বেশি অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যদ্রব্য গাজায় প্রবেশে সক্রিয়ভাবে বাধা দিচ্ছে। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় ডিম, সাধারণ মানুষের জন্য মাংস, মাছ এবং তাজা শাকসবজির মতো মৌলিক পুষ্টি উপাদান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যখন এই সমস্ত জরুরি ও জীবন রক্ষাকারী খাদ্যসামগ্রী আটকে দেওয়া হচ্ছে, তখন ইসরায়েল তুলনামূলকভাবে কম প্রয়োজনীয় বা 'অ-অত্যাবশ্যকীয়' পণ্যসামগ্রী উপত্যকায় প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে। এই পণ্যগুলো প্রায়শই স্ফীত বা অস্বাভাবিক বর্ধিত মূল্যে বাজারে বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সম্পূর্ণ বাইরে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় লক্ষ লক্ষ মানুষ যখন চরম খাদ্য সংকট, অপুষ্টি এবং দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে, তখন ত্রাণ বিতরণে এই ব্যাপক ঘাটতি সেখানকার মানবিক বিপর্যয়কে আরও গভীরতর করছে বলে তিনি সতর্ক করেন। যুদ্ধবিরতির মূল উদ্দেশ্য ছিল উপত্যকায় নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, কিন্তু অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যদ্রব্যের ওপর এই 'বাধা' সেই উদ্দেশ্যকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।