হানিবাল গাদ্দাফির অন্যতম আইনজীবী, শারবেল মিলাদ আল-খৌরি, সোমবার সন্ধ্যায় তার মক্কেলের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। "হানিবাল এখন আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্ত এবং তিনি তার ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো গন্তব্য বেছে নেওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার রাখেন," আল-খৌরি বলেন। তবে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে গাদ্দাফির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
এই মুক্তির পথ প্রশস্ত হয় কয়েকদিন আগে যখন লেবাননের বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ গাদ্দাফির ওপর থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে এবং তার জামিনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে। এর আগে গত অক্টোবরে আদালত তার জন্য ১১ মিলিয়ন ডলার জামিন ধার্য করেছিল, কিন্তু তার আইনজীবীরা জানান যে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা তার পক্ষে অসম্ভব। লিবিয়ার একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি বৈরুত সফর করে গাদ্দাফির মুক্তির বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতি আনে।
লেবাননের বিচার বিভাগীয় ও নিরাপত্তা সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, লিবিয়ার এই প্রতিনিধিদলই জামিনের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করেছে। হানিবাল গাদ্দাফি ২০১৫ সাল থেকে লেবাননে আটক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছিল, তিনি ১৯৭৮ সালে লিবিয়ায় এক রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া প্রখ্যাত লেবানিজ শিয়া ইমাম মুসা আল-সদরের বিষয়ে তথ্য গোপন করছেন। যদিও এই অন্তর্ধানের সময় গাদ্দাফির বয়স ছিল মাত্র তিন বছরেরও কম।
ইমাম সদরের অন্তর্ধানের ঘটনাটি লেবাননে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতের বিষয়। ইমামের পরিবার এখনো বিশ্বাস করে যে তিনি লিবিয়ার কোনো কারাগারে জীবিত থাকতে পারেন, যদিও লেবাননের বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন তিনি মৃত। গাদ্দাফি তার লেবানিজ স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সিরিয়ায় নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন।
২০১৫ সালে ইমাম সদরের বিষয়ে তথ্য আদায়ের জন্য লেবাননের সশস্ত্র মিলিশিয়ারা তাকে সিরিয়া থেকে অপহরণ করে লেবাননে নিয়ে আসে। পরে লেবাননের পুলিশ তাকে বৈরুতের একটি কারাগারে আটক রাখে, যেখানে তিনি ইমামের অন্তর্ধানের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন।