মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া অভিযানে শত শত মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার এক কেবিনেট বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমালি অভিবাসীদের সম্পর্কে তাঁর নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি তাদের আমাদের দেশে চাই না। সততার সাথে বলছি, কেউ হয়তো বলবে এটা রাজনৈতিকভাবে সঠিক নয়, কিন্তু আমি পরোয়া করি না।
আমরা যদি এভাবে আবর্জনা গ্রহণ করতে থাকি, তবে যুক্তরাষ্ট্র ভুল পথে ধাবিত হবে।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সেনাসদস্যকে গুলির ঘটনার জেরে তাঁর প্রশাসন সমস্ত রাজনৈতিক আশ্রয়ের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে। যদিও গত সপ্তাহের ওই ঘটনার সন্দেহভাজন ব্যক্তি আফগানিস্তানের নাগরিক, তবুও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সুযোগে সোমালিয়াসহ অন্যান্য দেশের অভিবাসীদের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ট্রাম্প বিশেষভাবে মিনেসোটার সোমালি কমিউনিটির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সোমালি বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি সোমালিদের উদ্দেশে বলেন, “তারা যেন তাদের নিজেদের দেশে ফিরে যায় এবং সেখানকার পরিস্থিতি ঠিক করে।” ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে, মিনেসোটা থেকে অর্থ চুরি করে জঙ্গিগোষ্ঠী আল-শাবাবের কাছে পাঠানো হচ্ছে, যদিও এই দাবির সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
তিনি মিনেসোটায় বসবাসরত সোমালিদের জন্য ‘টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস’ বা সাময়িক আইনি সুরক্ষা বাতিল করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই ঘোষণা মিনেসোটার অভিবাসী সমাজে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ইলহান ওমর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “আমার প্রতি তাঁর এই আচ্ছন্নতা ভীতিকর। আমি আশা করি তিনি তাঁর প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা পাবেন।”
অন্যদিকে, মিনেসোটার স্থানীয় নেতারা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। মিনিয়াপোলিসের মেয়র জেকব ফ্রেই ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ভুল’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, সোমালি অভিবাসীরা তাঁর কমিউনিটির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আইনিভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং এটি মূলত মিনেসোটার সোমালি সম্প্রদায়ের প্রতি সন্দেহ উসকে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে মাত্র ৭০৫ জন সোমালি টিপিএস বা সাময়িক সুরক্ষার আওতায় রয়েছেন, যা ট্রাম্পের ঢালাও মন্তব্যের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। তবুও, নব্বইয়ের দশক থেকে মিনেসোটায় বসবাস গড়ে তোলা হাজার হাজার সোমালি নাগরিক এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন।