মঙ্গলবার রাজধানী তেহরানে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় তিনি পশ্চিমাদের এই দ্বিমুখী আচরণের তীব্র নিন্দা ও কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, শত্রুদের এই কপটতা এখন আর কারও অজানা নয়। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার বক্তব্যে গাজা, লেবানন ও ফিলিস্তিনের বর্তমান মানবিক বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, যারা বর্তমানে ওই অঞ্চলে নারী, শিশু, বয়স্ক ও নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করছে এবং গণহত্যা চালাচ্ছে, তারাই আবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় প্রবক্তা বা চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের দাবি করছে।
তিনি এই অবস্থানকে ‘গভীরভাবে সাংঘর্ষিক’ ও ‘চরম লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেন। তার মতে, চোখের সামনে এমন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটিয়ে মানবাধিকারের কথা বলাটা বিশ্ববিবেকের সঙ্গে উপহাস ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি বলেন, “যারা অপরাধ ও হত্যাযজ্ঞে লিপ্ত, তাদের মুখে মানবাধিকারের বুলি মানায় না।” ইরানের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও রাজনীতির প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, ইরানের প্রকৃত শক্তি কোনো অস্ত্র বা খনিজ সম্পদ নয়, বরং এর জনগণই হলো দেশের আসল সম্পদ ও ক্ষমতার উৎস।
তিনি প্রশাসন, সংসদ, বিভিন্ন কাউন্সিলসহ রাষ্ট্রের সকল পরিচালনা পর্ষদকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের উচিত জনগণের পালস বোঝা এবং তাদের কল্যাণে কাজ করা। নিজের লক্ষ্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমার একমাত্র চাওয়া হলো ইরান যেন বিশ্বমঞ্চে গর্বের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় এবং এদেশের জনগণ যেন পূর্ণ মর্যাদা ও সম্মানের সাথে বাঁচতে পারে।”
এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার নীতি ও নির্দেশনার কাঠামোর ভেতরে থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সমাজে সংলাপ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনার উদ্ধৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মুক্ত আলোচনা ও বিতর্কের পরিবেশ বা ফোরাম গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
তিনি ছাত্রসমাজকে ‘জাতীয় সম্পদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এই তরুণ প্রজন্মের হাতেই। সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো তাদের কথা শোনা এবং তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য কাজ করা। এছাড়া সুশাসন নিশ্চিত করতে তিনি গণমাধ্যম এবং তদারকি সংস্থাগুলোকে সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর কড়া নজরদারি রাখার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।