প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ গত মাসে এই সমস্যাটিকে নিছক ‘বেসামরিক বা পরিবেশগত সমস্যা’র পরিবর্তে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাদের সেই সিদ্ধান্তের আলোকেই এই আইনি সংশোধনী আনা হয়েছে। নতুন নিয়মের আওতায় কর্তৃপক্ষ বর্জ্য পরিবহনের ট্রাক, অগ্নিসংযোগের কাজে ব্যবহৃত গাড়ি এবং অবৈধ ডাম্পিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ভারী যন্ত্রপাতি জব্দ করতে পারবে।
এতদিন পর্যন্ত বিষয়টিকে মূলত পরিবেশগত অপরাধ হিসেবে দেখা হতো, কিন্তু এখন থেকে একে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মোকাবেলা করা হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আভি ব্লুথ আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই নতুন আদেশে স্বাক্ষর করবেন এবং এরপরই ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ এর বাস্তবায়ন শুরু হবে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে একটি সমন্বিত ও আগ্রাসী অভিযানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর মাধ্যমে অপরাধীদের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেওয়া এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে একটি দৃষ্টান্তমূলক ও ভীতিপ্রদ পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, “এক মাস আগে আমরা বর্জ্য পোড়ানোর আগুনকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে ঘোষণা করেছিলাম। এটি কেবল কথার কথা ছিল না, বরং এটি ছিল কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি।
আমরা আগেই বলেছি, ইসরায়েলের নাগরিকদের বিষাক্ত বাতাস বা বিষ সেবন করতে বাধ্য করা হবে-এমন পরিস্থিতি আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। এই সমস্যার মূলোৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে অভিযান অব্যাহত রাখব।” নতুন এই পরিকল্পনায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং বর্জ্য অপসারণ ও অগ্নিসংযোগ মোকাবেলায় প্রচুর সম্পদ বরাদ্দের কথাও বলা হয়েছে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মতে, অপরাধীদের আয়ের উৎস বন্ধ করা এবং তাদের সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করার মাধ্যমে এই অবৈধ বাণিজ্যের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়াই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। পরিবেশবাদী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ দিন ধরে এই বিষাক্ত ধোঁয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছিলেন, যা অবশেষে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে রূপ নিয়ে কঠোর আইনি কাঠামোর আওতায় এলো।