মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ইরানি যুবককে বিয়ে করলেন মার্কিন ক্রীড়াবিদ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ইরানি যুবককে বিয়ে করলেন মার্কিন ক্রীড়াবিদ
ছবি : Collected

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং সংঘাতের আবহের মাঝেই মানবতা ও ভালোবাসার এক অনন্য উপাখ্যান রচিত হয়েছে।

 

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এক ইরানি যুবককে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন মার্কিন নারী বাস্কেটবল খেলোয়াড় চিয়াহ রায়েল-হুইটসিট। ইরানের স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া ক্লাব এস্তেগলালের হয়ে খেলতে এসে তিনি এই নতুন জীবনে পা রাখেন।

 

ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির বিস্তারিত প্রতিবেদনে এই যুগান্তকারী তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দুই দেশের চরম বৈরী রাজনৈতিক সম্পর্কের মাঝেও ভিন্ন সংস্কৃতির এই মেলবন্ধন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

 

গত সোমবার, ৮ জুন, রাজধানী তেহরানভিত্তিক ক্লাব এস্তেগলালের নারী বাস্কেটবল দলের সফল মৌসুম সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ২৮ বছর বয়সি এই তারকা ফরোয়ার্ড নিজের বিয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের এই বাসিন্দা অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে জানান, বিয়ের পবিত্র ও সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগেই তিনি ইসলামের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

 

তার এই ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত উপস্থিত সতীর্থ ও ক্লাব কর্মকর্তাদের মাঝে এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি করে। দীর্ঘ বিরতির পর নিজেদের নারী বাস্কেটবল কার্যক্রম পুনরায় অত্যন্ত শক্তভাবে চালু করার উদ্যোগ হিসেবে ২০২৫ সালে বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান বিদেশি খেলোয়াড়কে দলে চুক্তিবদ্ধ করে এস্তেগলাল।

 

তাদেরই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ ছিলেন চিয়াহ রায়েল-হুইটসিট। ইরানে প্রতিযোগিতামূলক বাস্কেটবলে ফেরার প্রথম মৌসুমেই তার অসাধারণ ও ধারাবাহিক ক্রীড়া নৈপুণ্যের ওপর ভর করে ইরানি নারী বাস্কেটবল চ্যাম্পিয়নশিপের কাঙ্ক্ষিত শিরোপা জয় করে এস্তেগলাল ক্লাব।

 

তার এই অসামান্য অবদান তাকে দ্রুতই ইরানি ক্রীড়ামোদীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছে। ইরানে পাড়ি জমানোর আগে চিয়াহ রায়েল-হুইটসিটের এক দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবন ছিল।

 

টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই মেধাবী অ্যাথলেট এর আগে আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, কসোভো এবং পুয়ের্তো রিকোর প্রথম সারির পেশাদার লিগে নিজের অসামান্য দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।

 

এরপর ২০২৫ সালে সম্পূর্ণ নতুন এক পরিবেশ ও সংস্কৃতির চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এস্তেগলালের সাথে যুক্ত হয়ে তিনি ইরানে আসেন। বিগত কয়েক মাস ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বিরাজ করলেও তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ইরানেই নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপন অব্যাহত রেখেছিলেন।

 

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পবিত্র রমজান মাস এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের চরম অস্থিরতার পুরোটা সময় এই মার্কিন ক্রীড়াবিদ তেহরানেই নিশ্চিন্তে অবস্থান করছিলেন, যা তার পেশাদারিত্ব এবং দেশটির সাধারণ মানুষের প্রতি তার গভীর আস্থার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।