সম্প্রতি নিজের ইসলাম গ্রহণের সেই অভাবনীয় ও রোমাঞ্চকর যাত্রার গল্প শুনিয়েছেন তিনি, যা এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তার মতে, ইসলাম গ্রহণ ছিল তার জন্য একটি ‘জীবনরক্ষাকারী অভিজ্ঞতা’ বা লাইফ সেভিং মোমেন্ট।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ফাইভ পিলারস’-এর একটি ভিডিও বার্তায় কার্টার তার অতীত জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, কৈশোরে তিনি ছিলেন একজন দিশেহারা ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত তরুণ।
একটি ভাঙা পরিবারে বেড়ে ওঠা এবং সঠিক অভিভাবকত্ব বা আদর্শ ব্যক্তিত্বের অভাবে তিনি গভীর একাকিত্ব ও বিভ্রান্তিতে ভুগতেন। মাত্র ১৪ বা ১৫ বছর বয়সে তিনি তথাকথিত ব্রিটিশ মূল্যবোধ এবং কট্টর ডানপন্থী চিন্তাধারার দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়ে পড়েন, যদিও সেই বয়সে সেসব মতবাদের প্রকৃত সারমর্ম বোঝার মতো পরিপক্কতা তার ছিল না।
পশ্চিমা সমাজে চলমান গভীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংকটের দিকে ইঙ্গিত করে এই নওমুসলিম সাংবাদিক বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ও সমাজ কাঠামোর বিভ্রান্তিকর মতাদর্শ মানুষকে নিজেদের আত্মপরিচয়, এমনকি লিঙ্গ পরিচয় নিয়েও সংশয়ের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। তিনিও একসময় এই স্রোতে গা ভাসিয়েছিলেন।
তবে জীবনের এই চরম হতাশার মুহূর্তে পবিত্র আল-কোরআন তার সামনে আশার আলো হয়ে ধরা দেয়। কার্টারের ভাষায়, যেদিন তিনি অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে প্রথমবার কোরআন হাতে তুলে নেন, সেদিনই তার জীবনের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে যায়। তিনি আবিষ্কার করেন, দীর্ঘদিনের মিডিয়া প্রপাগান্ডা ও ঘৃণার আবরণে ঢাকা পড়েছিল ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান পশ্চিমা রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং মূলধারার অনেক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম বিষাক্ত ‘ইসলামোফোবিয়া’ বা ইসলামভীতি এবং নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বে ভরপুর। এই অপপ্রচার সাধারণ মানুষকে সত্য জানা থেকে দূরে রাখে। ইসলাম গ্রহণের মুহূর্তটিকে নিজের ‘পুনর্জন্ম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন রবার্ট কার্টার।
আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, কালেমা শাহাদা পাঠ করার পর তার মনে হয়েছিল তিনি যেন নতুন করে পৃথিবীতে এসেছেন। এই বিশ্বাসই তাকে একটি আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ দেখিয়েছে। ভ্রান্ত ধারণা, ঘৃণা ও বিভ্রান্তি পেছনে ফেলে সত্যের পথে ফিরে আসার রবার্ট কার্টারের এই গল্প বর্তমানে বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে এবং পবিত্র কোরআনের আত্মিক পরিবর্তনের ক্ষমতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।