শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি আলেমের হাতে অন্তিম মুহূর্তে ইসলাম গ্রহণ করলেন ক্যানসার আক্রান্ত বৃদ্ধ

আর এন এস ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি আলেমের হাতে অন্তিম মুহূর্তে ইসলাম গ্রহণ করলেন ক্যানসার আক্রান্ত বৃদ্ধ
ছবি: সংগৃহীত

সীমানা ও সংস্কৃতির ভেদাভেদ ভুলে মানবতার এক অনন্য ও আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী হলো দক্ষিণ কোরিয়ার আনসান শহর। দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর জীবনের অন্তিম মুহূর্তে এসে ইসলাম ধর্মের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নিলেন কোরিয়ান নাগরিক চংওয়াং। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে আনসানের খুদেপিয়ংওয়ান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি বাংলাদেশি আলেম মুফতি ফয়জুল্লাহ আমানের হাতে কালিমা পাঠ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

 

বাস্তব জীবনের কিছু গল্প অনেক সময় কল্পনাকেও হার মানায়। চংওয়াংয়ের এই আধ্যাত্মিক পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছেন তার দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গী, বাংলাদেশি নারী লাইলা। প্রায় দেড় দশক আগে বাংলাদেশের সোনারগাঁয়ের মেয়ে লাইলার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন চংওয়াং। বিয়ের সময় নামমাত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেও তিনি মূলত ধর্মানুশীলনে অভ্যস্ত ছিলেন না। তবে স্বামীর জীবনের এই কঠিনতম সময়ে, যখন চিকিৎসকরা প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছেন, তখনো লাইলা একজন মমতাময়ী স্ত্রীর মতো তার পাশে ছায়ার মতো লেগে আছেন।

 

স্বামীর শারীরিক সেবা-শুশ্রূষার পাশাপাশি তার পারলৌকিক মুক্তির চিন্তাও লাইলাকে অস্থির করে তুলেছিল। মূলত স্ত্রীর ঐকান্তিক অনুরোধ এবং অনুপ্রেরণাতেই জীবনের সায়াহ্নে এসে তওবা করে নতুনভাবে ঈমান আনার ইচ্ছা পোষণ করেন চংওয়াং। হাসপাতালের সেই ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে এক হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তের অবতারণা হয়। কোরিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি যুবক ইমনের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান।

 

মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই চংওয়াং পরম বিশ্বাস ও প্রশান্তির সঙ্গে কালিমা পাঠ করেন। মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান এই রূপান্তরকে জীবনের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “মৃত্যু কোনো সমাপ্তি নয়, বরং এটি এক জগত থেকে অন্য জগতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া মাত্র। ইহকালীন জীবনে যদি সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক সুন্দর ও মজবুত হয়, তবে পরকালীন জীবন আরও অর্থবহ ও প্রশান্তিময় হয়ে ওঠে।”

 

মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে বেশ পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। তার হাত ধরে এ পর্যন্ত ৮০ জনেরও অধিক ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ ইসলামের পথে এসেছেন বলে জানা গেছে। তিনি চংওয়াংয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ চাইলে চরম অসুস্থ ব্যক্তিকেও সুস্থতা দান করতে পারেন। আর যদি তার হায়াত শেষ হয়ে থাকে, তবে যেন ঈমানের সঙ্গেই তার শেষ বিদায় হয়, সেটাই আমাদের কাম্য।

 

বর্তমানে চংওয়াং আনসানের ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ভিনদেশি এক নাগরিকের এমন ঈমানি পরিবর্তন ও বাংলাদেশি স্ত্রীর ত্যাগের এই ঘটনা কোরিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি কেবল একটি ধর্ম পরিবর্তন নয়, বরং ভালোবাসা ও বিশ্বাসের এক অনবদ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রবাসীদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।

 

- Somoy News