আজ বুধবার এশার নামাজের পর থেকে দেশের প্রতিটি প্রান্তের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মসজিদে মসজিদে সমবেত হয়ে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পবিত্র তারাবি নামাজ আদায় করবেন। এরপর শেষ রাতে সাহরি খাওয়ার মধ্য দিয়ে তারা প্রথম রোজা পালনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির পক্ষ থেকে বুধবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এই সুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সমগ্র দেশজুড়ে এক আধ্যাত্মিক ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
বছর ঘুরে আসা এই পবিত্র রমজান মাস বিশ্ববাসীর জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে রহমত, মাগফিরাত বা ক্ষমা এবং জাহান্নাম থেকে নাজাতের অসীম বার্তা নিয়ে আসে। ইসলামি শরিয়তের বিধান ও বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, আকাশে নতুন চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করেই রমজান মাসের সূচনা এবং ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়ে থাকে।
পবিত্র কোরআনুল কারিমে এই তাৎপর্যপূর্ণ মাস সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, মুসলমানদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, ঠিক যেভাবে তাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের ওপরও তা ফরজ করা হয়েছিল, যাতে করে তারা তাকওয়া বা বিশুদ্ধ খোদাভীতি অর্জন করতে পারে।
ইসলামি পরিভাষায়, সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের একান্ত আশায় যাবতীয় পানাহার, পাপাচার এবং সকল প্রকার নিষিদ্ধ কাজ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত রাখার নামই হলো প্রকৃত রোজা। এই পবিত্র মাসটি মূলত মানবজাতির আত্মশুদ্ধি, সংযম চর্চা এবং নৈতিক চরিত্র গঠনের এক অনন্য ও বিরল সুযোগ প্রদান করে।
এই পবিত্র মাসের ইবাদতের গুরুত্ব অন্যান্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। রমজান মাসের শেষ দশ দিন মসজিদে অবস্থান করে ইতিকাফ করা রাসুল (সা.)-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। এই পবিত্র মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ ও পুণ্যময় রজনী, যা ‘লাইলাতুল কদর’ বা শবে কদর নামে পরিচিত।
অনেক বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমের মতে, রমজানের সাতাশতম রাতটি শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে রাসুল (সা.)-এর নির্ভরযোগ্য হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, রমজান মাসের শেষ দশকের ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখের যেকোনো বেজোড় রাতেই এই মহিমান্বিত রজনী অন্বেষণ করতে বলা হয়েছে।
তাই এই বিশেষ রাতগুলোতে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মহান আল্লাহর অশেষ নৈকট্য, রহমত ও ক্ষমা লাভের গভীর আশায় রাত জেগে নফল ইবাদত-বন্দেগি, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার এবং বিশেষ মোনাজাতে মশগুল থাকেন। রমজানের এই পবিত্রতা যেন সমাজের সর্বস্তরে শান্তি ও সম্প্রীতি বয়ে আনে, সেটিই এখন সবার একান্ত প্রত্যাশা।