এই ঘোষণা সত্ত্বেও, হাদিসে কিছু বিশেষ সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যখন দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সর্বোচ্চ থাকে। এই বিশেষ মুহূর্তগুলো বান্দা ও রবের সম্পর্ককে আরও গভীর করার সুবর্ণ সুযোগ এনে দেয়। হাদিস শরিফে বর্ণিত এবং সাহাবীদের আমল দ্বারা প্রমাণিত সেই ১০টি বিশেষ মুহূর্ত নিচে তুলে ধরা হলো, যখন আল্লাহর দরবারে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে:
রাতের শেষ প্রহর, যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকে, তখন আল্লাহ তায়ালা বিশেষভাবে বান্দার দিকে মনোযোগ দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যখন রাতের শেষ অংশ আসে, তখন মহান আল্লাহ পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন, ‘কেউ কি আছে, যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কেউ কি আছে, যে কিছু চাইবে, আমি তা দেব? কেউ কি আছে, যে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব?” (বুখারি)
নামাজের জন্য আজান দেওয়া এবং নামাজ শুরু করার আগে ইকামত দেওয়ার মধ্যবর্তী সময়টি দোয়ার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “আজান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ে দোয়া ফেরত দেয়া হয় না। সুতরাং তোমরা দোয়া কর।” (তিরমিজি)
দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে রাতের নিস্তব্ধতা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের এক উপযুক্ত সময়। হাদিসে উল্লেখ আছে, রাতের এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলমান দুনিয়া বা আখিরাতের কল্যাণ কামনা করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। (মুসলিম)
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য একটি মহিমান্বিত দিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “জুমার দিনে বিশেষ একটি সময় আছে এ সময় যদি কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ তা অবশ্যই দান করেন।” (বুখারি) যদিও নির্দিষ্ট সময়টি নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, তবে আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত সময়টি সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য।
সিজদা এমন একটি মুহূর্ত, যখন বান্দা আল্লাহর নিকটবর্তী হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, “বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় যখন সে সেজদারত থাকে। সুতরাং তোমরা এ সময় বেশি করে দোয়া কর।” (আবু দাউদ ও নাসায়ী)
অন্য একজন মুসলিম ভাই বা বোনের জন্য তাঁর অনুপস্থিতিতে দোয়া করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ এবং তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলতেন, “মুসলিম ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে দোয়া করলে তা কবুল করা হয়। দোয়াকারীর মাথার কাছে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ফিরিশতা থাকে। যখনই তার ভাইয়ের জন্য কল্যাণের দোয়া করে, দায়িত্বপ্রাপ্ত ফিরিশতা তার দোয়া শুনে আমীন বলতে থাকে এবং বলে তুমি যে কল্যাণের জন্য দোয়া করলে আল্লাহ অনুরূপ কল্যাণ তোমাকেও দান করুন।” (মুসলিম)
ফরজ নামাজ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহর কাছে দোয়া করা কবুলের অন্যতম সময়। এক সাহাবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, কোন দোয়া সবচেয়ে বেশি কবুল করা হয়? তিনি বললেন, “শেষ রাতে এবং ফরজ সালাতের শেষে।” (তিরমিজি)
রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে আসে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আল্লাহ বলেন, “লাইলাতুল কদর (নির্ধারণের রাত) এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।” (সূরা আল-কদর, আয়াত : ৩)। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশ রাত অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ইবাদত করতেন। (মুসলিম)
বৃষ্টি আল্লাহর এক বিশেষ রহমত। এই রহমতের সময় দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই বৃষ্টি দেখতেন, তিনি দোয়া করতেন, “হে আল্লাহ! একে বরকতময় ও ফলপ্রসূ বৃষ্টি হিসেবে দান করুন।” (বুখারি)
কিছু বিশেষ শ্রেণির মানুষের দোয়া আল্লাহ দ্রুত কবুল করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তিনটি দোয়া নিঃসন্দেহে কবুল হয়- অত্যাচারিতের দোয়া, সফররত ব্যক্তির দোয়া এবং পিতার দোয়া (সন্তানের বিরুদ্ধে)।” (তিরমিজি) এই হাদিসগুলোতে মুসাফির এবং অত্যাচারিতদের অসহায়ত্বের কারণে তাদের দোয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ মুহূর্তগুলোতে ইবাদত ও দোয়ায় মনোযোগী হওয়া বান্দার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ বয়ে আনতে পারে।