রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উমাইয়া স্থাপত্যের দুই রত্ন, কুব্বাতুস সাখরা ও দামেস্কের গ্রেট মস্ক!

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০১:১৫ পিএম

উমাইয়া স্থাপত্যের দুই রত্ন, কুব্বাতুস সাখরা ও দামেস্কের গ্রেট মস্ক!
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী স্থাপত্যকলার ইতিহাসে উমাইয়া খিলাফত (৬৬১-৭৫০ খ্রিস্টাব্দ) এক স্বর্ণালি অধ্যায় রচনা করেছিল। এই সময়ের দুটি স্থাপনা—জেরুজালেমের কুব্বাতুস সাখরা (ডোম অব দ্য রক) এবং দামেস্কের উমাইয়া মসজিদ— আজও তাদের নান্দনিকতা এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

 

খলিফা আবদুল মালিকের নির্দেশে ৬৯১-৬৯২ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত কুব্বাতুস সাখরা ইসলামী স্থাপত্যের প্রাচীনতম নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। জেরুজালেমের হারাম আল-শরিফ প্রাঙ্গণে অবস্থিত এই স্থাপনাটি তার অষ্টভুজাকৃতির নকশা, স্বর্ণখচিত গম্বুজ এবং মনোমুগ্ধকর মোজাইক সজ্জার জন্য বিখ্যাত। ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী, এখান থেকেই নবী মুহাম্মদ (স.) মিরাজে গমন করেছিলেন।

 

অন্যদিকে, খলিফা আল-ওয়ালিদের হাতে ৮ম শতাব্দীর শুরুতে নির্মিত হয় দামেস্কের উমাইয়া মসজিদ। একটি প্রাচীন গির্জার স্থানে নির্মিত এই মসজিদটির বিশাল আঙ্গিনা, সুউচ্চ মিনার এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যের মোজাইক তৎকালীন শিল্পকলার এক অপূর্ব নিদর্শন। এর স্থাপত্যশৈলী পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মসজিদ নির্মাণে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

 

এই দুটি স্থাপনা কেবল উপাসনালয়ই নয়, বরং বিশ্ব সভ্যতার অমূল্য সম্পদ। বাইজেন্টাইন এবং পারস্য শিল্পকলার সঙ্গে ইসলামী ভাবধারার এক অনন্য সংমিশ্রণ ঘটিয়ে উমাইয়া শাসকরা যে স্থাপত্যিক উৎকর্ষের জন্ম দিয়েছিলেন, এই মসজিদ দুটি তারই কালজয়ী সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।