মানুষের ভাগ্য কি তার জন্মের আগেই নির্ধারিত হয়ে যায়? ইসলামের অন্যতম মূল বিশ্বাস, ‘তাকদির’ বা ‘আল-কদর’ (পূর্বনির্ধারণ), এই গভীর ধর্মতাত্ত্বিক প্রশ্নের উত্তর দেয়। নবী মুহাম্মদ (স.)-এর একটি বিখ্যাত হাদিস অনুযায়ী, মাতৃগর্ভে থাকাকালীনই একজন ফেরেশতার মাধ্যমে মানুষের চারটি প্রধান নিয়তি লিখে দেওয়া হয়।
সহিহ বুখারি এবং মুসলিম শরীফে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, এই চারটি বিষয় হলো: ১) তার রিজিক (সারা জীবনের প্রাপ্তি ও জীবিকা), ২) তার আজল (জীবনকাল বা বয়স), ৩) তার আমল (কর্মকাণ্ড), এবং ৪) তার চূড়ান্ত পরিণতি (সে ভাগ্যবান হবে, না দুর্ভাগ্যবান)।
ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, ভ্রূণ ১২০ দিন বয়স পূর্ণ করার পর, আল্লাহ একজন ফেরেশতাকে পাঠান, যিনি তাতে আত্মা ফুঁকে দেন এবং এই চারটি বিষয় লিখে দেন। তবে, ধর্মতাত্ত্বিকরা ব্যাখ্যা করেন যে, ভাগ্য পূর্বনির্ধারিত হলেও, মানুষ তার কর্মের জন্য স্বাধীন এবং দায়ী। তাকদিরে বিশ্বাস মানুষের নৈতিক দায়বদ্ধতাকে বাতিল করে না।
তাকদিরে এই বিশ্বাস ইসলামী বিশ্বদৃষ্টির একটি ভিত্তি। এটি একদিকে যেমন বিশ্বাসীদের আল্লাহর পরিকল্পনার ওপর আস্থা রাখতে শেখায়, তেমনই অন্যদিকে ভালো কাজ করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্বকেও স্মরণ করিয়ে দেয়। মাতৃগর্ভে ভাগ্য নির্ধারণের এই ধারণাটি মূলত সৃষ্টিজগতের ওপর স্রষ্টার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং অসীম জ্ঞানেরই প্রতীক।