এই বছরব্যাপী কুরআন প্রতিযোগিতায় সমাজের এক বিশাল প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, এবং বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এছাড়াও খেটে-খাওয়া সাধারণ মানুষও কুরআন পাঠের এই মহতী আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হন। পাঁচটি ধাপে অনুষ্ঠিত এই কঠিন প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে মোট ১১৭ জন প্রতিযোগী পুরস্কার লাভের গৌরব অর্জন করেন। বিজয়ীদের মাঝে সর্বমোট ১৫ লাখ টাকা সমমূল্যের পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনকারী তিনজন আগামী নভেম্বরে পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন। এই তিনজন হলেন- দক্ষিণ বারিধারার এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী কে এম ইউসুফ নূর, এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ শিক্ষার্থী ফাহিম আশরাফ এবং রাজশাহী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দন্ত চিকিৎসক আফসানা মিম। উল্লেখ্য, উমরাহ বিজয়ী ফাহিম আশরাফ সম্প্রতি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করায় তার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন তাঁর বাবা। এ সময় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মরহুমের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সম্মানসূচক পারিবারিক গ্রন্থাগার লাভ করেছেন তিনজন নারী। প্রত্যেকে ৫০ হাজার টাকা সমমূল্যের পারিবারিক গ্রন্থাগার উপহার পেয়েছেন। এই তিন সফল প্রতিযোগী হলেন- উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া, গৃহিণী উম্মে মারয়াম এবং সায়মা আক্তার তিন্নি।
অন্যদিকে, তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ছয়জন প্রতিযোগীর প্রত্যেকে একটি করে ট্যাব পুরস্কার পান। তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের মধ্যে ছিলেন বুয়েটের প্রভাষক শেখ আজিজুল হাকিম, মাদরাসা শিক্ষার্থী মুয়াজ মুহাম্মাদ আজাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমজাদ হোসেন, চিকিৎসক লিওজা আরা তোহফা, গৃহিণী নিগার সুলতানা এবং নূরানি শিক্ষক মো. ইবরাহিম। এছাড়া চতুর্থ স্থান অর্জনকারী ১০৫ জন প্রতিযোগী প্রত্যেকে এক হাজার টাকা সমমূল্যের বিভিন্ন উপহার ভাউচার লাভ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয় যে, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী তিনজনই নারী প্রতিযোগী এবং চূড়ান্ত পর্বে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আয়োজকরা মনে করেন, এই ফলাফল প্রমাণ করে যে, দীনি চেতনা ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে নারীরা এখন পুরুষদের সমকক্ষ অবস্থানে রয়েছেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি তাঁর বক্তব্যে প্রত্যেক মুসলমানকে প্রতিদিনের জীবনে কুরআন তেলাওয়াত, অনুধাবন এবং সেই অনুযায়ী জীবন পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, "আমরা যদি কুরআনকে বুঝে জীবন গড়তে পারি, তবেই সমাজ ও পরিবার থেকে সকল প্রকার অশান্তি ও অনৈতিকতা দূর হবে।"
ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সাব্বির আহমাদ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, এই প্রতিযোগিতার আয়োজন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কুরআনের প্রতি গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসা তৈরি করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কুরআনের আলোয় আলোকিত এই প্রজন্মই একদিন নৈতিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনে নেতৃত্ব দেবে। অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, প্রতিযোগিতা পরিচালনা টিম এবং কুরআনপ্রেমী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।