বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নে অবস্থিত তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে তিনি এই প্রচারভিযানের শুভ সূচনা করেন। গভীর রাতেও স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের উপস্থিতিতে এলাকাটি মুখর হয়ে ওঠে, যা নির্বাচনের প্রাক্কালে দলটির তৃণমূলের উদ্দীপনাকে স্পষ্ট করে তোলে।
সিলেটের এই জনপদ শুধু তারেক রহমানের রাজনৈতিক কর্মক্ষেত্রই নয়, বরং তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আবেগের একটি বিশেষ স্থান। দীর্ঘ সময় পর সশরীরে নিজের শ্বশুরবাড়িতে উপস্থিত হয়ে তিনি নির্বাচনী বিধি মেনে আনুষ্ঠানিক প্রচারের ডাক দেন।
সমবেত জনতার উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী এখন থেকে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাওয়ার আনুষ্ঠানিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি আগামী নির্বাচনে দলের প্রতীককে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তারেক রহমান অত্যন্ত আবেগময় ও সংবেদনশীল সুরে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বহু বছর পর তিনি এবং এই এলাকারই সন্তান ডা. জোবাইদা রহমান তাঁদের নিজ বাড়িতে ফিরেছেন।
তিনি ডা. জোবাইদা রহমানকে 'এলাকার মেয়ে' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, আজ আপনাদের ঘরের মেয়ে যখন আপনাদের মাঝে ফিরে এসেছে, তখন তাঁর সম্মান রক্ষার দায়িত্ব এখন আপনাদেরই।
তিনি জনতার উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেন যে, এই সম্মান তখনই সুরক্ষিত হবে, যখন এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হবে। তারেক রহমানের এই আহ্বানে উপস্থিত জনতার মধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যায়।
তিনি যখন দক্ষিণ সুরমা ও বিরাইমপুরবাসীর কাছে জানতে চান যে, তাঁরা ধানের শীষকে বিজয়ী করতে প্রস্তুত কি না, তখন উপস্থিত জনতা সমস্বরে সমর্থনের আশ্বাস দেন। মূলত, রাজনীতির পাশাপাশি পারিবারিক ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক আবেগকে কাজে লাগিয়ে তারেক রহমান তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার এই প্রথম ধাপটি অত্যন্ত কৌশলী ও হৃদয়গ্রাহীভাবে সম্পন্ন করেছেন, যা আসন্ন নির্বাচনে কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।