এমনকি এমপিদের জন্য বরাদ্দকৃত স্বল্পমূল্যের সরকারি প্লটও দলের কেউ নেবেন না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের অংশীদার হতে প্রয়োজনে রিকশায় চড়ে যাতায়াত করার মানসিকতা রাখার জন্য তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
বিগত কয়েক দশকের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে যারা দেশ শাসন করেছেন তারা নির্বাচনের আগে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা ভুলে গেছেন। জামায়াত সেই অপরাজনীতির অবসান ঘটাতে চায়। তিনি ঘোষণা করেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নির্বাচিত সকল জনপ্রতিনিধি এবং তাদের পরিবারের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হবে।
জনগণের আমানতে কেউ হাত দিলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির দায় পূর্ববর্তী শাসকদের ওপর চাপিয়ে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে কেউ চাঁদা নিতে এলে জনগণের সহায়তায় তাদের শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা হবে।
জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, আবু সাঈদ, আবরার ফাহাদ এবং ওসমান হাদীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না। মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে ‘রাজার ছেলে রাজা’ হওয়ার প্রথা থাকবে না।
বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে একজন অতি সাধারণ শ্রমিকের সন্তানও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসার স্বপ্ন দেখতে পারবে। মেধা ও নৈতিকতাই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল মাপকাঠি। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ‘আজাদি বনাম গোলামি’র লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করে ডা. শফিকুর রহমান দেশের মা-বোনদের মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে অনেক জায়গায় নারীদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে পচা রাজনীতির চরিত্র বদলে দেওয়ার এই ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া না করতে তিনি ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। একটি দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ১১-দলীয় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।