শনিবার, ২ মে সকালে সিলেটে পৌঁছানোর পর তিনি তার পূর্বনির্ধারিত রাষ্ট্রীয় ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। ঐতিহাসিক এই সফরের শুরুতেই তিনি প্রখ্যাত সুফি সাধক হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।
মাজার জিয়ারত শেষে তিনি নগরীর চাঁদনীঘাট এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃক গৃহীত একটি যুগান্তকারী জলাবদ্ধতা নিরসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশাল সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
সুধী সমাবেশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে নবউদ্বোধিত এই বিশাল প্রকল্পের বিস্তারিত রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেন। সিলেট মহানগরীকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে।
সরকারি তথ্যমতে, এই বৃহৎ প্রকল্পের মোট বাস্তবায়ন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে চার হাজার ছয়শত পঁয়ত্রিশ কোটি টাকা। এই সুবিশাল বাজেটের আওতায় মূলত সুরমা নদীর তীর সংরক্ষণ, নাগরিকদের হাঁটার জন্য আধুনিক ওয়াকওয়ে নির্মাণ, নগরজুড়ে সবুজায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং নগরীর কাঠামোগত সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ সম্পন্ন করা হবে।
এর পাশাপাশি সিলেটের দীর্ঘদিনের সমস্যা বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা হবে, যা জনসাধারণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মানকে বহুগুণে উন্নত করবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফরকালে তার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। এছাড়া সরকারের একাধিক উচ্চপদস্থ মন্ত্রী এবং নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তারাও এই সুধী সমাবেশে অংশ নেন।
তাদের মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
পাশাপাশি, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, সরকারের ঊর্ধ্বতন আমলা ও প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য বৃদ্ধি করেন।
এর আগে, শনিবার সকালে অত্যন্ত ব্যস্ততাপূর্ণ এই সফরের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানী ঢাকার গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে বের হয়ে সকাল নয়টা বিশ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত হন।
প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আরোহণ করেন এবং সকাল দশটায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন। পুণ্যভূমির মাটিতে পা রাখার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
বিমানবন্দরে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী এবং সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী।
এছাড়াও বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান ও জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।