শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেলে বাংলাদেশকে দুর্নীতি, ঘুষ এবং চাঁদাবাজিমুক্ত একটি আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আল্লাহ যদি আমাদের ওপর দেশের দায়িত্ব অর্পণ করেন, তবে এক ইঞ্চি মাটির ওপরেও কেউ চাঁদাবাজি বা ঘুষ নেওয়ার সাহস করবে না।"

 

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বিগত ৫৪ বছরের শাসনব্যবস্থাকে ‘জুলুমের ইতিহাস’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আলেম-ওলামা থেকে শুরু করে কৃষক-শ্রমিক, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষ-কেউই এই দীর্ঘ সময়ের দুঃশাসন থেকে রেহাই পায়নি।

 

বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীকে সবচেয়ে নির্যাতিত দল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, কেবল আদর্শিক কারণে দলের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে এবং হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা ও পঙ্গু করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দলগতভাবে কোনো প্রতিশোধ না নিয়ে তারা শুকরিয়া আদায় করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

 

সিলেটের স্থানীয় সমস্যাগুলো নিয়ে বিশেষ আলোকপাত করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দেশ চললেও সিলেট আজ গ্যাস, বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি এবং ড্রেনেজ সংকটে জর্জরিত। বৃষ্টি হলেই পর্যটন নগরী সিলেট তলিয়ে যায় এবং সুরমা-কুশিয়ারা নদী আজ অস্তিত্ব সংকটে।

 

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হবে এবং প্রবাসীদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া চা শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

 

বিগত সরকারের সময় পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের হক যারা লুট করেছে, তাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে এনে দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন করা হবে। নিজেকে ‘সিলেটের সন্তান’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের কাছে একবার সুযোগ প্রার্থনা করেন।

 

তিনি বলেন, "আমরা দেশের মালিক হতে চাই না, আমরা আপনাদের পাহারাদার হতে চাই।" জনসভা শেষে তিনি জামায়াত ও ১১-দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং জনগণের দোয়া কামনা করেন।